৬:২৬ অপরাহ্ণ
জকিগঞ্জে দাখিল পরীক্ষার ফলাফল: প্রথমে বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা
২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় জকিগঞ্জ উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ফলাফলে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে যথেষ্ট বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। জকিগঞ্জ উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা।
প্রতিষ্ঠানটি ৯২.৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করিয়ে উপজেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক মানোন্নয়নের স্পষ্ট প্রমাণ। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ, শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ)-এর স্মৃতিবিজড়িত, শতাব্দী প্রাচীন এই মাদ্রাসাটি বিগত কয়েক বছর ধরেই ফলাফলের দিক থেকে নিজেদের শীর্ষ অবস্থানে ধরে রেখেছে। নিয়মিত শ্রেণি পাঠদান, অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশই এই সফলতার মূল ভিত্তি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলাফল ঘোষণার পর মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডা. তোফাজ্জল আলী মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, যার পাসের হার ৮৬.৬৭%। তৃতীয় স্থানে রয়েছে নবীগঞ্জ দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৮২.৫০%), এরপর রয়েছে বারহাল গাউসিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৮০.৯৫%) ও গঙ্গাজল হাসানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (৭৯.২৫%)। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে সোনাপুর মাজহারুল উলূম আলিম মাদ্রাসা (৭৪.২৯%, জিপিএ-৫: ১ জন), গোটারগ্রাম ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৬৮.৮৯%, জিপিএ-৫: ২ জন), কসকনকপুর গাজীরমোকাম দাখিল মাদ্রাসা (৬০.৯৮%, জিপিএ-৫: ১ জন) ও ইছামতি দারুল উলূম কামিল মাদ্রাসা (৫২.৩৮%, জিপিএ-৫: ১ জন)। অন্যদিকে, উপজেলায় সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে হাজী তৈয়ব আলী বালিকা দাখিল মাদ্রাসায়, যার পাসের হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। এছাড়া পূর্ব ইছামতি দাখিল মাদ্রাসা (৪২.১১%), রশিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৪৭.৬২%), ইছামতি দারুল উলূম কামিল মাদ্রাসা (৫২.৩৮%) এবং উত্তরকুল মোশাহিদীয়া দাখিল মাদ্রাসা (৫৩.৭০%) আশানুরূপ ফল করতে পারেনি।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে উৎকর্ষতা থাকলেও বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় ফলাফল খুবই হতাশাজনক। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় শিক্ষাবিদগণ আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে সকল মাদ্রাসা সমভাবে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।