৮:০ ০ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাই শিক্ষকের মূল দায়িত্ব- ড.মো: দিদার চৌধুরী
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শ্রেণি পরিচালনা এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির প্রসারে শিক্ষক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে "চিত্তাকর্ষক পাঠদানের কলাকৌশল" শীর্ষক একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ দুপুর ১২টায় সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. দিদার চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষক শুধু জ্ঞান প্রদানকারী নন; তিনি শিক্ষার্থীর দক্ষতা, সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের অন্যতম কারিগর।
তাই পাঠদানকে আনন্দময়, অংশগ্রহণমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তুলতে শিক্ষকদের নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর জনাব খসরু মাহমুদ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষক ও কলেজ পরিদর্শক জনাব শেখ মো: নজরুল ইসলাম, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেটের উপাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ শামীম খান, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেটের শিক্ষক প্রশিক্ষক জনাব আলী হোসাইন ও তরুণ গবেষক গোলাম রাব্বী ।
বক্তারা শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় শেখানো, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, প্রশ্নভিত্তিক শিক্ষা, দলীয় কার্যক্রম, মূল্যায়নের আধুনিক কৌশল এবং শিক্ষার্থীর বৈচিত্র্যময় চাহিদা অনুযায়ী পাঠ পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, একজন দক্ষ শিক্ষকই একটি দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গঠনের ভিত্তি স্থাপন করতে পারেন। কর্মশালার সমন্বয়ক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সীমান্তিক আইডিয়াল টিচার্স ট্রেনি কলেজ, সিলেটের প্রভাষক জনাব সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষকতার পেশা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ও চ্যালেঞ্জিং তাই নতুন শিক্ষাক্রম, উদ্ভাবনী শিক্ষণ-কৌশল এবং আন্তর্জাতিক মানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শিক্ষকদের ধারাবাহিকভাবে দক্ষ করে তুলতে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষকের পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনে আরও সক্ষম হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পাঠদানকে অধিক আকর্ষণীয়, কার্যকর এবং ফলপ্রসূ করে তুলতে সক্ষম হন। ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়, শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ বাড়ে এবং শিক্ষার সামগ্রিক অর্জন ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
একই সঙ্গে শিক্ষকরা আধুনিক প্রযুক্তি, সৃজনশীল মূল্যায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার কৌশল বাস্তবায়নে অধিক আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। কর্মশালায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং অংশগ্রহণমূলক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবহারিক উপস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিক পাঠদানের নানা কলাকৌশল সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।
উল্লেখ্য, কর্মশালার মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘আমাদের শিক্ষা ভাবনা’। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মশালার ধারাবাহিক আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।