৯:২৭ অপরাহ্ণ
ছাতকে হাঠাৎ পেঁয়াজের মূল্য ১শ’ টাকা, ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা
হাসান আহমদ, ছাতক:: ছাতকে হঠাৎ করে পেঁয়াজের মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় জনগনের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি কেজি ৭০ টাকা থেকে বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকায়। এ পরিস্থতি উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজারে। মাত্র ক’মাস আগে খুচরা বাজারে এ পেঁয়াজের মূল্য ছিল ১৮০-২০০টাকা। সে পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই আবারো পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ জনগণ পড়েছেন আবারো বিপাকে। পেঁয়াজের হঠাৎ এ মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দায়ি করছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। তারা বলছেন, একদিকে করোনা ভাইরাসে দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে এ ভাইরাসকে পূজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালের মূল্য বৃদ্ধি করছেন। কিন্তু বাজারের খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, গেল মঙ্গল ও বুধবার তারা ৩৫ থেকে ৪০টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সিলেটের আড়ৎগুলোতে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ তারা পায়নি। যে কারণে সেখান থেকেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৬০টাকা দরে। খোজ নিয়ে যানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ছাতকবাজার, গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টসহ নতূনবাজার, জাউয়াবাজার, দোলারবাজার, নোয়ারাইবাজারসহ ছোট বড় সব ক’টি বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১শ’ টাকায়। হঠাৎ এ মূল্য বৃদ্ধির ফলে বেকায়দায় পড়েছেন ক্রেতারা। তবোও আরো মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকেই ৫ থেকে ১০কেজি করে ক্রয় করছেন। চাল, ডাল, রসুনের গায়েও আগুন। সবজি বাজারেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে এ উপজেলার সব ক’টি হাট-বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। সচেতন অনেক ক্রেতারা বলছেন, বাজার মনিটরিং না থাকায় এক ধরণের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে নিরবে বাজারে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে অল্প দিনে আঙ্গুল ফুঁলে গলাগাছে রুপান্তরিত হচ্ছে। বেশি দামে বিক্রি করার জন্য তাদের প্রতিটি গুদাম ভর্তি করে রাখা হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল। গোবিন্দগঞ্জ বাজারের একাধিক খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, সিলেটে দাম বাড়ায়তো আমরা কিছু বাড়িয়েছি কিন্তু কোন কোন ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে ৯০ থেকে ১শ’ টাকা পর্যন্ত মূল্য নিচ্ছেন, এটা ঠিক হচ্ছে না। একদিন আগেও তারা ওই পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৩৫ থেকে ৪০টাকায়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম কবির বলেন, খবর পেয়ে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাজারে অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। তারা তিনটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৪৫হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা করেছেন। ক্রমান্বয়ে অন্যান্য হাট-বাজারগুলোতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পেঁয়াজ-রসুনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় আড়ৎ ও খুচরা দোকানে মালিকরা অধিক মুল্যে মালামাল বিক্রির অপরাধে বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের খুচরা ব্যবসায়ী জননী ষ্টোরকে ৫হাজার টাকা, সাদিক ষ্টোরকে ১০হাজার টাকা ও পাইকারী বিক্রেতা ছালিক এন্ড রমিজ ট্রেডার্সকে ৩০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও শহরের কাচাঁবাজারে তরকারী বিক্রেতা, চাল বিক্রেতা ও মুরগী দোকান মালিকদের মুল্য বৃদ্ধি না করতে পরামর্শ ও সতর্ক করা হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তীতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের হুসিয়ারী দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশানার (ভুমি) ও নির্বাহী হাকিম তাপস শীল এ ভাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইয়াছিন মিয়া মুন্সিসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশানার (ভুমি) ও নির্বাহী হাকিম তাপস শীল বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৫হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া ও দোলারবাজারসহ অন্যান্য হাট-বাজারগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।