৫:৫৩ অপরাহ্ণ
শাহপরাণ থানায় ভুয়া বাদীর সাজানো মামলা: হয়রানী
সিলেটে ‘ভুয়া’ বাদীর সাজানো মামলায় নিরীহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হয়রানী করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জাবেদ হোসেন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার খাস গ্রামের আতাউর রহমানের পুত্র। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে এসএমপির শাহপরাণ থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা কিংবা সে কোন মামলার এজাহারভুক্ত আসামী না হলেও তাকে আটক করে দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা। টাকা দিতে না পারায় তাকে ভুয়া বাদীর ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। কয়েক দিন জেল হাজতে থেকে পরে জামিনে পান তিনি।
জানা গেছে, সিলেট সদরের বহর মৌজার ছাপা ৪৫৩৭ ও বর্তমান ৯০২৪ দাগে প্রায় সাড়ে ৫ একর ভূমির মালিক উপজেলার পূর্ব কল্লগ্রামের আবুল হাসানাত। জনৈক মুজিবুর রহমান জালজালিয়াতির মাধ্যমে ওই ভূমি জবরদখলের চেষ্ঠা করলে আবুল হাসানাত ও কবির আহমদ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ১৮ ফেব্রুয়ারি এসএমপি পুলিশ কমিলনার ও উপ-পুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) কাছে একাধিক অভিযোগ করেন। অভিযোগটি এসএমপির পদস্থ কর্মকর্তাদের তদন্তে থাকাবস্থায় আবুল হাসানাত ও তার স্বজনদের হয়রানী করতে মেতে ওঠেন অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান।
এ উদ্দেশ্যে মুজিববুর রহমান জনৈক হাবিবুর রহমানকে ভুয়া বাদী সাজিয়ে আবুল হাসানাত-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসএমপি’র শাহপরাণ থানায় মাটি কাটার একটি মামলা টুকিয়ে দেন। মামলানং ০৮(২)২০২০। মামলার বাদী হাবিবুর রহমান হৃদয় যে ভূমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ করে মামলা করেছেন, ওই ভূমির স্বত্ব-মালিকানার সাথে বাদীর আদৌ কোন সম্পর্ক নেই। এছাড়া বাদী তার আসল ঠিকানা গোপন করে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে এ মামলা করেছেন। সিলেট সদরের খাদিমপাড়া এলাকার দাসপাড়ায় মামলার বাদী হাবিবুর রহমান হৃদয়ের আদৌ কোন বাড়িঘর নেই। মুলত হাবিবুর রহমান হৃদয়ের বাড়ি সুনামগঞ্জে বলে জানা গেছে। এমনকি বাদী হাবিবুর রহমান হৃদয় যে কোম্পানীর ম্যানেজার সেজে এ মামলা করেছেন, সে ডেভোলাপার কোম্পানীও ভূয়া। সরেজমিনে এই কোম্পানীর কোন অফিস ঘটনাস্থলের ভূমিতে নেই। সম্পর্ন ভূয়া নাম ঠিকানা ও ভূয়া কোম্পানীর ম্যনেজার সেজে একটি সাজানো মামলা করেন বাদী হাবিবুর রহমান হৃদয়। আর এহেন ভূয়া গ্রেফতার করা হয় জাবেদ হোসেকে।
জাবেদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মামলার বাদী হাবিবুর রহমান যে ভূমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ করেছেন, সে ভূমির সাথে যেমন বাদীর মালিকানার কোন সম্পর্ক নেই, তেমনি বাস্তবে ওই ভূমি (হালদাগ-৯০৪৮) থেকে মাটি কাটার কোন আলামতই বিদ্যমান নেই। শাহপরাণ থানা পুলিশের এসআই আব্দুস সালাম
সাথে সম্পূর্ন যোগসাজশে হাববিুর রহমানকে ভূয়া বাদী সাজিয়ে মিথ্যাভাবে এ মামলা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার ব্যাপারে শাহপরাণ থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। মামলায় মিথ্যা বা জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হলে তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার এসআই আব্দুস সালাম জানান, মাটি কাটার ঘটনাস্থল কোন দাগ সেটাও এখনো আমি চিহ্নিত করতে পরিনি। ভিন্ন দাগে মাটি কাটা হয়ে থাকলে নকশা ও কাগজপত্র নিয়ে প্রমান করার জন্য বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষকে বলেছেন বলে জানান তিনি।