২:২২ পূর্বাহ্ণ
সংযোগ সড়ক না থাকায়
কমলগঞ্জ ৪ কোটি টাকার সেতু চলাচল অনুপযোগী
চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় চলাচল অনুপযোগী। পাঁচ বছর আগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের মধ্যবর্তী ধলাই নদীর উপরে সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় একালাবাসীরা মাটি দিয়ে কোনরকমে একটি সড়ক তৈরি করে আসছে।
কিন্তু কয়েকবছর ধরে সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করলেও যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে মানুষের চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায় সেতুটি। জানা যায়, উপজেলার আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ হয় এই সেতু দিয়েই। দুই ইউনিয়নে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বসবাস, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ২০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে মানুষজনের। নামমাত্র যাতায়াতের জন্য কিছু মাটি ফেলে একটি সড়ক তৈরী করে সেতু দিয়ে মানুষ কোনরকমে পারাপার করলেও যানবাহন চলাচল করতে পারেনা।
মাধবপুর ইউনিয়ণের শুকুরউল্লাহর গাঁও গ্রামের আসমা বেগম, ছাদেক মিয়া বলেন, ‘এ সেতুটি উদ্বোধনের সময় দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্থানীয় সাংসদ। কিন্তু ৫ বছর পার হয়ে গেলেও সড়ক আর নির্মিত হলোনা। প্রসূতিদের হাসপাতালে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’ কৃষক মান্নান মিয়া ও সালাম মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজ করেন। মৌসুমী ফসল উপজেলা সদরসহ জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা বেশি ঘুরতে হয়। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।
এতে করে ফসল উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।’ এ এলাকার সদ্য সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল কুমার সিংহ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে সেতুর দুপাশের বেহাল অবস্থা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের লোকজন এসে রাস্তাটি মেপে নিয়ে গেছে।’ মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, ‘সড়ক ও সেতুর বেহাল অবস্থা থাকায় এলাকাবাসীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।’ কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাটি সরু হওয়ায় এবং স্থানীয়রা জমি না দেওয়ায় সড়কের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। রাস্তাটি মেপে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্থাব পাঠানো হয়েছে।’