৯:০ ০ অপরাহ্ণ
কমলগঞ্জে চির'শা'য়িত হলেন স্কুল শিক্ষিকা রোজিনা, হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসায় অ'শ্রু'সি'ক্ত বি'দায়!
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সন্ত্রাসীদের ছুরিকাহতে নিহত নবদুত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সকলের প্রিয় রুজিনা মেডাম। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় মাধবপুর ইউনিয়নের উত্তর ভাষানীগাঁও জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে ভাষানীগাঁও কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা আক্তারের জানাজায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেয়। দল-মত নির্বিশেষে রোজিনার জানাজায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কমলগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এড, কামরুল ইসলাম প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন,সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ের গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করা না হলে কমলগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এই সন্ত্রাসীদের সমাজে কোন স্থান নেই, এরা সামান্য কিছু জমির জন্য শুধু শিক্ষিকা রোজিনা নয়,সাথে তার অনাগত সন্তানসহ ভাবী লুভনা বেগমের অনাগত সন্তানকেও খুন করেছে এই মানুষরূপী নরপিশাচরা। আমাদের দাবী আটক খুনি আব্দুর রহিমসহ তার ছেলে পলাতক প্রধান আসামী রেজাউল করিম সাগরকে গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাড় করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হোক। সেই সাথে খুনি নরপিশাচ আব্দুর রহিমের সকল সম্পত্তি রোজিনার রেখে যাওয়া অনাত সন্তান রেদোয়ানকে দেয়া হোক। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এম এ ওয়াহিদ রুলু, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতাহের আলি প্রমূখ। বক্তারা রুজিনার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন।
আর যেন কোন রুজিনা কে এভাবে অকালে চলে যেতে না হয়। তারজন্য সমাজের দুষ্কৃতকারীদের রুখতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। উল্লেখ্য গতকাল সোমবার সকালে আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিজামুদ্দিনের জমি দখল করে এক্সেভলেটর দিয়ে পুকুর খনন শুরু করেন।
এসময় নিহতের বড় ভাই হারুন মিয়া (৪০) ও তার স্ত্রী লুভনা বেগম (৩৪) বাধা দিলে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিম ও তার ছেলে রেজাউল করিম সাগরের নেতৃত্বে আজবর মিয়া, মোতাই মিয়াসহ একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় হারুনের ভগ্নিপতি জালাল হোসেন (৪৮) ও ছোট বোন শিক্ষিকা রোজিনা বেগম (৩০) এগিয়ে গেলে কতিপয় রেজাউল করিম সাগর আব্দুর রহিম ও তার শেলক আজবর মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর হামলা করে।
এ সময় ছোট বোন রোজিনা বেগম ছুরিকাহত হয়ে ঘটনা¯স্থলেই নিহত হন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন ভগ্নিপতি জালাল হোসেন,ভাই হারুন মিয়া ও তার স্ত্রী লুভনা বেগম। ঘটনার পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় খুনি আব্দুর রহিম, মনির মিয়া ও রুসমত মিয়া এ তিন জনকে আটক করছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত রেজাউল করিম সাগর ও আজবর মিয়া পলাতক রয়েছেন।