সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০ ২৬
জাবেদ তালুকদার, নবীগঞ্জ ::
৩০ জানুয়ারী ২০ ২২
৩:৪১ পূর্বাহ্ণ

সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু মর্মে প্রতিবেদন দেন ফাড়ির ইনচার্জ
নবীগঞ্জে আলমগীর হত্যাকান্ডের আসামী গ্রেফতার

নবীগঞ্জে আলোচিত আলমগীর হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ১ বছর পর মামলার অন্যতম আসামী রুয়েল মিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য আসামী জুবেল পলাতক রয়েছে। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারী) বিকালে নবীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ সড়কের মাধবপুর নামক স্থানের একটি চা স্টল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত রুয়েল মিয়া উপজেলার নিজ আগনা গ্রামের মৃত এশ্বাদ আলীর ছেলে। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০২১ইং সালের ২০শে জানুয়ারী ভোর রাতে নবীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক থেকে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ছোট ভাকৈর গ্রামের বড় বাড়ির মৃত আবুল কালাম আজাদের পুত্র ৪০ বছর বয়সী মোঃ আলমগীর মিয়ার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয় পথচারী। পরে পুলিশকে খবর দিলে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির তৎকালীন ইনচার্জ ঘটনাটিকে স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় আলমগীর মিয়া মারা গেছেন সন্দেহে ছুরতহাল তৈরী করে লাশ মর্গে প্রেরন করেন। নিহতের পরিবারের দাবী ছিল তাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে। এবং এটাকে সড়ক দূর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করা হয়।

পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হবিগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে ২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং সুষ্ট বিচার ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবীতে স্থানীয় কাজির বাজারে মানবন্ধন করেন এলাকাবাসী। আদালতে মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে রুজু করার জন্য নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে নিদের্শ দিলে মামলাটি রুজু করে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলামকে। সম্প্রতি মৃত আলমগীর মিয়ার ময়না তদন্ত রিপোর্টে আঘাতে মৃত্যু উল্লেখ আসলে আসামী গ্রেফতার ও ঘটনার তদন্তে মাঠে নামেন ওসি (তদন্ত) মোঃ আমিনুল ইসলাম। গত শুক্রবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ সড়কের মাধবপুর নামকস্থানে একটি চা স্টল থেকে রুয়েল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম জানান, পুলিশ যদি প্রথমেই আমাদের অভিযোগটি আমলে নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করত এবং আসামীদের গ্রেফতার করত তাহলে আমাদেরকে এই ১ বছর বিচারের আসায় বসে থাকতে হতনা। বর্তমানে আমি আমার তিনটি মেয়ে নিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। আমি ও আমার পরিবার এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং তাদেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবী করছি। গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত রুয়েল মিয়াকে প্রথমিক জিজ্ঞাষাবাদ শেষে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ