মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১০ , ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
১ জানুয়ারী ২০ ২৬
৮:২৬ অপরাহ্ণ

হাড়কাঁপানো শীতের রাতের আধাঁরে ছি'ন্ন'মূল মানুষের দ্বারে দ্বারে কমলগঞ্জের ইউএনও

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় হাড়কাঁপানো শীতে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল নিয়ে রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান।

জানা যায়, পৌষের তীব্র শীতে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, বিশেষ করে চা-বাগান অধ্যুষিত ও দুর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষ যখন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই আশীর্বাদ হয়ে হাজির হন ইউএনও। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি কমলগঞ্জ পৌর এলাকা রেলওয়ে স্টেশন, বিভিন্ন বাজার ও ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে নিজের হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন ঘুমন্ত অসহায় মানুষদের গায়ে। রাতের নিস্তব্ধতায় সরকারি এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক শীতার্ত মানুষ। কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকার প্রতিনিধি আসহাবুজ্জামান শাওন বলেন, এই জনপদগুলোতে জেঁকে বসা এই কনকনে ঠান্ডায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছে ছিন্নমূল মানুষ।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। হিমেল হাওয়ায় জবুথবু বৃদ্ধ ও শিশুরা ভুগছেন নানা শীতজনিত রোগে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, সামনের কয়েকটা দিন প্রকৃতির এই শীতল লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই মানবিক কার্যক্রম উপজেলার দুস্থ মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও আশার আলো সঞ্চার করেছে।

কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি আহমেদুজ্জামান আলম বলেন, ‘শীতের এই কঠিন সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন তৎপরতা প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারি কর্মকর্তার এই মানবিক কার্যক্রম উপজেলার দুস্থ মানুষের মাঝে আশার আলো সঞ্চার করেছে। সমাজের বিত্তবানরাও যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে কমলগঞ্জের কোনো মানুষকেই আর শীতের কষ্টে ভুগতে হবে না।

প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীল আচরণে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থা ফিরে এসেছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করেই রাতের আঁধারে এই ঝটিকা অভিযান। মূলত প্রকৃত অসহায় মানুষ যারা লোকলজ্জার ভয়ে দিনের বেলা হাত পাততে পারেন না এবং যারা রাস্তাঘাটে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান, তাদের জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। প্রধান উপদেষ্টার এই উপহার পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ