৬:৩৩ অপরাহ্ণ
গুরুতর আহত পুলক দেবনাথ
জগন্নাথপুরে জমি বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, একই পরিবারের ৩ ভাই হাসপাতালে
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জায়গা-জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে নারীসহ একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিন ভাই—পুলক দেবনাথ, পংকজ দেবনাথ ও প্রান্ত দেবনাথ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুলক দেবনাথ বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর মীরপুর ইউনিয়নের লহরী গ্রামের শিবনাথের বাড়ির সামনে ব্রিজসংলগ্ন সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বীনা রানী নাথ নামে এক নারী জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে কালী রঞ্জন নাথ, রাখাল দেবনাথ, সিজন দেবনাথসহ ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বীনা রানী নাথ উল্লেখ করেন, জায়গা-জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার রাতে তার ছেলে প্রান্ত দেবনাথ বাড়ি থেকে বের হয়ে ছুফল মিয়ার দোকানের দিকে যাওয়ার সময় লহরী গ্রামের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্তরা রামদা, চাকু, লোহার রড, সুলফি ও লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রান্ত দেবনাথের ওপর হামলা চালান।
একপর্যায়ে কালী রঞ্জন নাথ অন্যদের নির্দেশ দিয়ে প্রান্তকে ‘মেরে ফেল’ বলে হুকুম দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রাখাল দেবনাথ চাকু দিয়ে প্রান্ত দেবনাথকে আঘাত করলে তার ডান কানের পাশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রান্তের চিৎকার শুনে তার মা বীনা রানী নাথ এবং অপর দুই ছেলে পুলক ও পংকজ ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কালী রঞ্জন নাথ রামদা দিয়ে পুলক দেবনাথকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পংকজ দেবনাথের মাথা লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ দেওয়ার পাশাপাশি চাকু ও লোহার রড দিয়েও তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বীনা রানী নাথের চুল ধরে টানাহেঁচড়া, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করার পাশাপাশি তার শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহত পুলক দেবনাথ, পংকজ দেবনাথ ও প্রান্ত দেবনাথকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়া হয়।
বর্তমানে তিন ভাইই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলক দেবনাথের আঘাত বেশি গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, হামলার পর অভিযুক্তরা সুযোগ পেলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনার পর বীনা রানী নাথ জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।