সোমবার, আগস্ট ১০ , ২০ ২৬
বিজ্ঞপ্তি::
৯ আগস্ট ২০ ২৬
১০ :০ ৯ অপরাহ্ণ

সিলেট সিটি পিপিপি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ, পৃথক পিপিপি সেল গঠনের

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সিলেটের নগর সেবার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণে পিপিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সীমিত সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অর্থ, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতাকে কাজে লাগাতে আমরা আগ্রহী।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের কর্মকর্তারা পিপিপির কাঠামো, প্রকল্প প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছেন। এখন আমরা একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্পকে পাইলট হিসেবে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য একজন ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ এবং পর্যায়ক্রমে পৃথক পিপিপি সেল গঠন করা হবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আমরা একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রকল্প প্রস্তুত করে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।” গতকাল (৯ আগষ্ট) রোববার নগরীর দরগা গেইটস্থ একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে সিলেট সিটি করপোরেশন ও এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের ‘সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেলস (এসইউডব্লিউসি)’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত পিপিপি বিষয়ক ৮ ও ৯ আগস্ট দুই দিনের প্রশিক্ষণ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রশিক্ষনের উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার ।

প্রশিক্ষণে সিটি করপোরেশনের ৩৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বক্তব্যে তাঁরা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন একটি পিপিপি প্রকল্প পাইলট আকারে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। এ জন্য প্রথমে একজন পিপিপি ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ করা হবে। পরবর্তী সময়ে একটি পৃথক পিপিপি সেল গঠন করা হবে। সেলটি পিপিপি প্রকল্পের প্রস্তুতি, বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত কাজ এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে। প্রশিক্ষণে সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিনের প্রশিক্ষণে নগর সেবার বর্তমান পরিস্থিতি, প্রচলিত সরকারি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, পিপিপির ধারণা ও কাঠামো, পিপিপি আইন-২০১৫-এর আওতায় বাংলাদেশের পিপিপি কাঠামো, ক্রয় পদ্ধতি, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। দ্বিতীয় দিনে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খাতে পিপিপির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, পার্কিং, বাজার, টার্মিনাল ও সড়কবাতি। এ সময় প্রকল্পে ঝুঁকি বণ্টন, অর্থায়নের মৌলিক বিষয় এবং ঋণদাতাদের বিবেচ্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা দলগতভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের ধারণা তৈরি করেন। পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনার খসড়া করা হয়। প্রতিটি দল আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তিনটি করে কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করে। প্রশিক্ষণে সম্পদ ব্যক্তি হিসেবে পিপিপি কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. আলী আজম আল আজাদ, পিপিপি বিশেষজ্ঞ এম মুর্শেদ হায়দার এবং এসএনভির পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যাডভাইজার এম জি শাওন, সিএফএ অংশ নেন। প্রশিক্ষণ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন এসএনভির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোছাম্মদ রাহিমা বেগম, পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যাডভাইজর মোঃ গোলাম সাওন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাডভাইজর মোঃ সুমন আলী, এবং ফ্লাড ও ড্রেনেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজর মোঃ ইমাম হোসেন। সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিলেটে ক্রমবর্ধমান নগর সেবার চাহিদা পূরণে পিপিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সীমিত পৌর বাজেটের মধ্যে বর্জ্য সংগ্রহ, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি সরবরাহ ও বাজার অবকাঠামোর মতো খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অর্থায়ন ও পরিচালন দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে পিপিপি। তবে এ ধরনের প্রকল্প সফল করতে ঝুঁকি যথাযথভাবে বণ্টন, কার্যকর চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। ফোকাল পয়েন্ট ও পৃথক পিপিপি সেল গঠনের মাধ্যমে এসব বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ