৭:১৬ অপরাহ্ণ
কাটছাঁট ভিডিও ছড়িয়ে হেয় করার চেষ্টার অভি'যোগ
পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক বিরোধে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিলেটে কর্মরত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলস ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান মনির।
হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ কাটছাঁট করে দুই অজ্ঞাত নারীকে তার সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাজাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরে বসবাসরত মনিরুজ্জামান মনির। সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী মহসিনা আক্তারও বক্তব্য দেন।
লিখিত বক্তব্যে মনির বলেন, তিনি দেশের অন্যতম ব্যবসায়ীক গ্রুপ পাতাবাহার কোম্পানিতে কয়েক বছর ধরে সেলস ম্যানেজার হিসেবে সিলেটে কর্মরত। চাকরির প্রয়োজনে তাকে প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয় এবং প্রয়োজন হলে বাসার বাইরেও রাতযাপন করতে হয়।
তিনি জানান, গত ২৬ আগস্ট রাত ৮টার দিকে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার গেট এলাকার মাসুক মিয়া হোটেলে তিনি রাতযাপন করেন। তার দাবি, চাকরির প্রয়োজনে হোটেলে অবস্থান করলেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ অপপ্রচার শুরু করে।
মনিরের অভিযোগ, ওই দিন হোটেলের রিসেপশনে থাকা দুই অজ্ঞাত নারীকে কেন্দ্র করে একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হোটেলের সিসিটিভির কিছু ভিডিও সংগ্রহ করে কাটছাঁট ও আগপিছ করে ওই নারীদের তার সঙ্গী হিসেবে দেখিয়ে প্রচার করা হয়েছে।
পরে এসব ভিডিও ‘তালাশ টিভি’ ও ‘ক্রাইম টিভি’সহ বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয় । মনির বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর ভিডিওগুলো প্রচারের পর তিনি সামাজিকভাবে অপমানিত ও বিব্রত হয়েছেন এবং তার পরিবারও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। তার দাবি, হোটেলে ঘটনার সময়ের আগে ও পরের এক ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিডিও প্রচারের সময় তিনি কোম্পানির মিটিংয়ে ঢাকায় ছিলেন।
এ সময় তার স্ত্রী মহসিনা আক্তারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে প্রভাবিত করা হয়। পরে তার স্ত্রীর সেই বক্তব্যও ভিডিও করে প্রচার করা হয়েছে । সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী মহসিনা আক্তার বলেন, স্বামীর সঙ্গে তার প্রায় ১৭ বছরের সংসার।
এই সময়ে তার স্বামী তাকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করেননি এবং কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখেননি। সম্প্রতি কয়েকজন পূর্বপরিচিত ব্যক্তি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু ভিডিও দেখান এবং স্বামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলতে বাধ্য করেন। এ
তে বিভ্রান্ত হয়ে ভয়, আবেগ ও রাগের বশে তিনি কিছু কথা বলেন। পরে জানতে পারেন, তার অজান্তে সেই বক্তব্য ভিডিও ধারণ করে প্রচার করা হয়েছে। মহসিনার দাবি, তার বক্তব্যের পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, স্বামীকে নিয়ে দুই সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে সংসার করছেন এবং পারিবারিক জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ বিশ্বাস করার কারণ ছিল।
মনির ও তার স্ত্রী উভয়েই দাবি করেন, ব্যবসায়িক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাদের পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেননি তারা। সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই, পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং অপপ্রচার বন্ধে সহযোগিতা কামনা করেন তারা।