৬:১২ অপরাহ্ণ
বিক্ষোভে উত্তাল কুলাউড়া: মেয়র, চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি
কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদ, হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বকস্ ও তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদের পদত্যাগের দাবিতে পৃথক স্থানে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল এবং স্মারকলিপি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররা।
গতকাল ১৮ আগস্ট (রোববার) এসব কর্মসূচি পালিত হয়। জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা পৌরসভার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তারা স্মারকলিপি দেন। হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ বকস্ গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেন। এতদিন তার ভয়ে সাধারণ জনগণ মুখ না খুললেও সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যান। এতে ইউনিয়নের জনগণ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় কটারকোনা বাজারে শতশত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও বিক্ষুদ্ধ জনতা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বকসের পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন। এতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী তারেক আহমদ, জয়নুল ইসলাম, রহিম রহমান, রায়হান আহমদ, ফাহমিদা ইয়াছমিন, সুমাইয়া আক্তার, সিমলা আক্তার ও এলাকার পক্ষে হারুনুর রশীদ।
এদিকে উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিশাল মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অবিলম্বে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে ভারত-বাংলাদেশের ট্রানজিট সড়কে কয়েক ঘন্টা আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
এসময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী হাসান, শাহজাহান খান, মিছবাহ, জনি ও লিপি, এলাকাবাসীর পক্ষে সাবেক শিক্ষার্থী মইনুল ইসলাম, আলী এম আক্তার, প্রবাসী ব্যবসায়ী আবু রুকিয়ান বক্তব্য দেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নবুয়ত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি।
এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তবে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কাউকে উপস্থিত পাইনি। শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ চাচ্ছে। বিষয়টি ২-৩ দিনের মধ্যে সুরাহা হবে। কুলাউড়া পৌর মেয়র ও হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এব্যাপারে আমরা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।