বুধবার, মে ২৭, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
২০ আগস্ট ২০ ২৪
১১:৩৩ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর একাধিক স্থানে ভাঙ্গন: পানি ঢুকলো অর্ধশতাধিক গ্রামে, পানিবন্ধী হাজারো পরিবার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে ধলাই নদীর একাধিক স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিলে মুহূর্তে পানি ঢুকে পড়ে অর্ধশতাধিক গ্রামে।

কয়েকদিনের টানা বর্ষনে ধলই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মঙ্গলবার সকালের দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন এর কুরমাঘাট চেক পোস্ট এলাকায় দুটি জায়গায় ভাঙন দেয়, এর পর দুপুরের শামসুর দোকান ও মকাবিল এলাকায় আরো দুটি ভাঙন দিলে মুহূর্তেই ইসলামপুর ও আদমপুর এ দুটি ইউনিয়নের শ্রীপুর, কোনাগাঁও, গঙ্গানগর, গোলের হাওর, দক্ষিন গোলের হাওর, কুরমাঘাট,  ভান্ডারিগাঁও, বনগাঁও, মধ্যভাগসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে হাজারো পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়ে।


এছাড়াও মাধবপুর ইউনিয়নের ছয়ছিড়ি,বাঘবাড়ি, মাঝেরগাঁও,ধলাইপাড়, মাধবপুর চা বাগান,মদনমোহন চা বাগান সহ বেশ কয়টি এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ে।

পানিবন্ধী হাজারো পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন সড়কের উপর। এছাড়াও বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তার ওপর দিয়ে পানি উপছে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত রয়েছে।

নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি সহ মানুষ জন পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। গত সোমবার (১৯ আগষ্ট) শেষ রাতে মুষলধারে বৃষ্টির পানি ও উজান থেকে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সকাল থেকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পায়।

মঙ্গলবার সকালে নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৪ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের লাঘাটা ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে পানির চাপে দমকলের ঝিলের ওপর স্থাপিত কালভার্টটি ভেঙ্গে যায়।

ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে সুনছড়া-চিৎলীয়া-কামারছড়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া উপজেলার কমলগঞ্জ-আদমপুর এবং শমসেরনগর-কুলাউড়া সড়কের শমসেরনগর বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ওপর দিকে কমলগঞ্জ পৌরসভার খুশালপুর, মুন্সিবাজার, পতনঊষার ও রহিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিন্মাঞ্চলের আউশ ধানের জমি তলিয়ে গেছে। দুপুর ১২টায় ভানুগাছ রেলওয়ে সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার খবর মিলে ।

কয়েকটি এলাকায় রাস্তার ওপর দিয়ে পানি উপছে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত রয়েছে। নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি সহ মানুষ জন পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের মাধবপুর ইউনিয়নের হিরামতি,পাঠনিকোণা, আদমপুর ইউনিয়ন এর কাটাবিল, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর, লক্ষিপুর, চৈত্রঘাট ও রহিমপুর ইউনিয়নের শ্যামেরকোনা ও ছয়কুট,কমলগঞ্জ পৌরসভার কুমড়াকাপন, উজিরপুর, আলেপুর, নরেন্দ্রপুর ও রামপাশা, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ, নারায়নপুর, রামপুর, রানীরবাজার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সবুজ আহমেদ জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ড,বিজিবিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ মকাবিলে গ্রামে বাংলাদেশ সীমানায় ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি মেরামত করতে গিয়ে ভারতীয় বিএসএফ এর আপত্তির কারণে বাঁধটি মেরামত করা যায়নি।

মঙ্গলবার দুপুরে এই বাধ ভেঙ্গে নদীর পানি প্রবেশ করে আমাদের পুরো এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। গরু,ছাগল,হাঁস-মুরগী ও সবজীগুলো তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিব আহমেদ বলেন, ধলাই নদীর পানি মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ভানুগাছ রেলওয়ে সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ১৪ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২টায় ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন,ধলাই নদীর আকস্মিক পানি বেড়ে গিয়ে ইসলামপুরে কয়েকটি জায়গায় ভাঙ্গন দেখা দিয়ে ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়ন এ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্লাবিত হয়ে মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও বিরুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ