৩:৪২ অপরাহ্ণ
জকিগঞ্জে এলজিইডির সড়ক নির্মাণ শেষ না হতেই ভাঙন, অনি'য়মের অভি'যোগে ক্ষো'ভ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কে ভাঙন ও গর্ত দেখা দেওয়ার অভি'যোগ উঠেছে। এতে উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একই সঙ্গে তারা কাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির ঘাটতির অভি'যোগ এনে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভি'যোগ, অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হয় না।
ফলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণত্রুটির কারণে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন অফিস বাজার-মুন্সিবাজার সড়ক নিয়ে। সরকারি অর্থায়নে মাত্র দুই থেকে তিন মাস আগে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হয়। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর টেকসই একটি সড়ক পাওয়ার আশা করেছিলেন এলাকাবাসী।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, রাস্তার প্রান্ত ভেঙে যাচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানির কারণে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এতে কাজের মান ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে সুলতানপুর ইউনিয়নের গঙ্গাজল-রসুলপুর (ছয়ঘরি) সড়ক নিয়েও। স্থানীয়দের ভাষ্য, পিচঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর গার্ডওয়ালের কাজ চলাকালেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সড়ক ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে সড়কটি যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি। গঙ্গাজল অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির দায়িত্বশীলরা জানান, কয়েক মাস আগেই সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। অথচ এখনই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে।
অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের এমন বেহাল অবস্থা উন্নয়নকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজ কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি টেকসইভাবে সড়ক সংস্কার এবং অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।