৬:৫৮ অপরাহ্ণ
বকেয়া মজুরির দাবীতে কমলগঞ্জের ৫ টি বাগানের চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া মজুরি প্রদানের দাবীতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতী পালন করে বিক্ষোভ করেছে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার এনটিসির মালিকানাধিন ৫টি চা বাগানের চা শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার(২২ অক্টোবর) সকাল থেকে ৫টি চা বাগানের শ্রমিকরা পাত্রখোলা তিন রাস্তার মোড়ে একত্রিত হয়ে পরে পাত্রখোলা চা বাগানের প্রধান ফটকের সম্মুখে গিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এ সময় বুধবারের মধ্যে পাওনা বকেয়া পরিশোধ না করলে কঠোর অবস্থানের হুশিয়ারি দেয় বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা। বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে কমলগঞ্জের পাত্রখোলা, কুরমা, চাম্পারায়, মদন মোহনপুর ও মাধবপুরের চা শ্রমিকরা অংশ নেন। মানববন্ধনে চা শ্রমিকরা বলেন, তাদের ছয় সপ্তাহের মজুরি বকেয়া আছে। মজুরি না পেয়ে সংসার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
মালিকপক্ষ বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করলে তাঁরা কাজে ফিরবে না। পূজার আগে বলল মজুরি দিয়ে দিবে। কিন্তু আমাদের মজুরি দেয়া হল না। টাকা না পেলে আমাদের সংসার চলবে কিভাবে, না খেয়ে মরতে হবে। পাত্রখোলা চা বাগানের যুব নেতা প্রদীপ পাল বলেন, আমাদের চা শ্রমিকদের ঘরে খাবার নেই। তাঁরা অনেক কষ্ট করে চলছেন।
যদি অনতিবিলম্বে বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হয়, তবে চা বাগানগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালীর সভাপতি ধনা বাউরি বলেন, এনটিসির মালিকানাধীন চা বাগানগুলোর মজুরি সমস্যার বিষয়ে এর আগেও আন্দোলন করেছেন শ্রমিকরা। কিন্তু কোন সমাধানের পথ হয়নি। চা শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের সাথে আছে।
এদিকে চা বাগানের এক কর্মকর্তা জানান, ন্যাশনাল টি কোম্পানী নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, আমাদের সেয়ার হোল্ডারগণ প্রায় ৫৪ কোটি টাকার ঋণ পাস করেছিলেন। কোন এক ব্যক্তি রিট আবেদন করলে তা বন্ধ হয়ে যায়,নতুবা চা শ্রমিকদের বকিয়া মজুরি আটকা পড়তোনা।
আজকের এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তাতে বিষয়টি পরিক্ষার হচ্ছে ন্যাশনাল টি কোম্পানী নিয়ে কোন চক্রান্ত চলছে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার এমদাদুল হক জানান,সমস্যাটির সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, আবারো বোর্ড মিটিং বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে এ সমস্যা আর থাকবেনা।