বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০ ২৬
অধ্যাপক শেখ আব্দুর রশিদ::
২৭ আগস্ট ২০ ২৫
৫:৫১ অপরাহ্ণ

স্বাধিকার সংগ্রাম: বাঁশের কেল্লার শহীদ তিতুমীর জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন, পলাশীর আম্রকানন। যুদ্ধমান দুটি পক্ষ, একদিকে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব সিরাজ-উদ-দ্দৌলার কামান গুলাবারুদে সুসজ্জিত সুদক্ষ প্রায় এক লক্ষ সৈন্য। অপরদিকে ক্লাইভ এর নেতৃত্বে মাত্র ১১০০ সৈন্য। লক্ষ সৈন্য একটাবার মাগো বলে চিৎকার দিলে ক্লাইভের ১১০০ সৈন্য হার্ট ফেল করে মারা যেত। সেখানে তেমন কোন যুদ্ধই হলো না। সিরাজ-উদ-দৌলার বাহিনী পরাজিত হলো। কাপুরুষ সিরাজ উদ দৌলা দেশ ছেড়ে প্রাসাদের পিছনের দরজা দিয়ে পালালেন।

অবশ্য সব স্বৈরাচারের চরিত্র একই। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অস্তমিত হলো বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য। শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়ের। অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, বৈষম্য- বঞ্চনা, খুন রাহাজানি এবং আত্মসম্মানহীন জীবন। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন , ১৭৭৭ সালে কৃষি জমিতে নীল চাষ, এদেশীয় কৃষকদের উপর চরম দুর্ভোগ ডেকে আনে। এসব থেকে পরিত্রাণে মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সংগঠিত করেন। তাদের প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ দেন এবং বাংলা প্রেসিডেন্সির বারাসাত অঞ্চলে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। তিতুমীরের বিরুদ্ধে ১৮৩১ সালে বৃটিশ ম্যাজিস্ট্রেট উইলিয়াম স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী কামান ব্যবহার করে। তিতুমীরকে আহ্বান করা হয় আত্মসমর্পণ করো, নয়তো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। তিতুমীর আত্মসমর্পণ না করে যুদ্ধেই শহীদ হন। তিতুমীর সেদিন শহীদ হলেও তাঁর চেতনাকে ধারণ করে ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তান নামক দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় । তার পরেও বৈষম্য বঞ্ছনা , খুন রাহাজানি থেকে মুক্তি পায়নি এদেশের মানুষ।

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ শহীদ ও মা বোনের সম্ভ্রমহানির মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল প্রতিষ্ঠা, এরশাদের সামরিক শাসন সহ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলছিল দেশ। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গুম, খুন অপহরণ, বাক স্বাধীনতা হীনতা এবং সর্বোপরি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার চর্চার সব ধরনের পথ রূদ্ধ করে দেয়া হয়। কোটার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে চরমভাবে ভুলুন্ঠিত করে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা কোটা প্রথা নিয়ে চরম হতাশায় ভুগে। ২০১৩ সালে প্রথম কোটা প্রথার বিরুদ্ধে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ও কলেজ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

এর চূড়ান্ত পরিনতি আসে ৩৬ জুলাই এর গণঅভ্যুত্থানে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে। শহীদ তিতুমীর ও শহীদ আবু সাঈদ দু'জনের আত্মত্যাগ একই সূত্রে গাঁথা হলেও শহীদ তিতুমীরের আত্মত্যাগের ফসল তার পরবর্তী প্রজন্ম অর্জন করতে পারেনি। ৫ই আগষ্ট ২০২৪ বাংলাদেশে বিপ্লব পরবর্তী সরকারের মাধ্যমে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা কতটুকু পূরণ হয়েছে বা ভবিষ্যতে কতটুকু হবে তার জন্য আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। লতিফা-শফি চৌধুরী মহিলা কলেজ।

চেয়ারম্যান : সিলেট সেন্টার ফর ইনফরমেশন এন্ড ম্যাস মিডিয়া (সিফডিয়া)

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ