৫:৫৩ অপরাহ্ণ
কমলগঞ্জে বন্যা দুর্গতদের মাঝে বিএনপি সহ বিভিন্ন সংগঠনের শুকনো খাবার বিতরণ
মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যার পানি বৃদ্ধি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি কিছু কিছু জায়গায় কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কয়েকদিনের মূলধারায় বৃষ্টির কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধলাই নদীর বাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করলে হাজার হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরে। দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানি আর খাবারের সংকট। তা ছাড়া গতকাল ভয়াবহতা ছড়িয়ে পরে পুরো উপজেলার সব কটি ইউনিয়নে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকাসহ নিম্নাঞ্চল।
সেগুলোতে এখনো বন্যার পানি বিরাজ করছে। গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে ঘাটে ক্ষেতে পানি উঠায় চরম গো খাদ্য সংকটে পড়েছেন তারা। বিশেষ করে ইসলামপুর,আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। সেখানে শত শত পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই উপজেলার মাধবপুর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও চা বাগানের বন্যার্তদের মাঝে উপজেলা বিএনপি এর অঙ্গসংগঠন ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজন প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করেছেন। এসব প্যাকেটে ছিল শুকনো চিড়া-মুড়ি গুড়।
বুধবার সকাল থেকে উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শফির নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু ইউপি সদস্য মোতাহের আলী,বিএনপি নেতা মাসুক আহমেদ, শহিদ সিরাজি, আবুল কাসেম, কামাল আহমেদ,সবুর মিয়া, রাজা মিয়া,আছিম মিয়া বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন তারা।
অপরদিকে গতকাল রাত থেকে আদমপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ওয়াসির আহমেদের নেতৃত্বে আদমপুর ইউনিয়ন এর বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদূর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করছে তাদের সহযোগিতা করছে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজনও।
উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শফি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে সহায়তা অব্যাহত আছে এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উপজেলা বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু বলেন, আমরা বিভিন্ন পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করে যাচ্ছি। আমরা প্রতিদিন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাব। আমার ইউনিয়নে পানিবন্দি কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না।
উল্লেখ্য কয়েকদিনের টানা বর্ষনে ধলই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মঙ্গলবার সকালের দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন এর কুরমাঘাট চেক পোস্ট এলাকায় দুটি জায়গায় ভাঙন দেয়, এর পর দুপুরের শামসুর দোকান ও মকাবিল এলাকায় আরো দুটি ভাঙন এবং সন্ধ্যার পর আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাধটি মাধবপুর ইউনিয়ন এলাকা দিয়ে ভাঙ্গল দিলে মুহূর্তেই ইসলামপুর,আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
এ ইউনিয়ন গুলোর কিছু কিছু স্থানে মঙ্গলবার বন্যার পানি কিছুটা নেমে গেলেও শমশেরনগর ও পতনঊষার ইউনিয়নের নির্মাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।