বুধবার, মে ২৭, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
২৩ অক্টোবর ২০ ২৪
৮:১৯ অপরাহ্ণ

ফলোআপ:
বকেয়া মজুরির দাবীতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ৩য় দিনে মাধবপুরের চা শ্রমিকরা

ছয় সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে টানা তিন দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি করেছেন রাষ্ট্রমালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) চা শ্রমিকরা। গত সোমবার থেকে সারাদেশের এনটিসির ফাঁড়ি বাগানসহ ১৬টি চা বাগানের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি করেছেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাদের প্রাপ্য মজুরী না পেলে কাজে যোগদান করবেন না। এদিকে বুধবার সকাল ১০টায় কর্মবিরতির ৩য় দিনে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের চা শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে "অনাহারে অর্ধাহারে সন্তানদের নিয়ে আর কতদিন, আমাদের ন্যায্য বকিয়া মজুরি বুঝিয়ে দিন" এই শ্লোগান নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগান কারখানার প্রধান ফটকের সম্মুখে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন ও বিক্ষোভ করে।

এসময় বক্তব্য দেন মাধবপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত প্রধান বাবুল আহমেদ, পঞ্চায়েত সদস্য কান্তিলাল, বলরাম চাষা, সুমন, শ্রমিক সর্দার বিপ্লব নুনিয়া, নির্মল দাস, নারী নেত্রী সোনামনি রাজবংশী, ঝুমকি গড়, রেখা দাস, কুমারী নুনিয়া, ললিতা রাজভর প্রমুখ।

মাধবপুর চা বাগানের নারী শ্রমিক মালতি বলেন, আমরা তিন দিন ধরে আন্দোলন করছি। আমাদের ঘরে খাবার নেই। কারো হাতে টাকা নেই। এভাবে আর কয় দিন চলবো। বাড়িতে ছেলেমেয়েরা না খেয়ে আছে। বক্তারা বলেন,আজ দেড় মাস ধরে আমাদের মজুরী বন্ধ রয়েছে, আমরা অর্ধাহারে অনাহারে সন্তানদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছি,এমনও কিছু পরিবার আছে যাদের সপ্তাহ ধরে তুলা জ্বলছে না। উপষ দিন কাটছে তাদের।

এখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের ন্যায্য বকিয়া মজুরী ও ১৭ মাসের এরিয়া বিল না দেয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবো না। বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি বাবুল আহমেদ বলেন, আমাদের শ্রমিকদের ঘরে খাবার নেই। দোকানদার পূর্বের পাওনার জন্য নতুন করে আর বাকি দিচ্ছেনা। অনাহারে অনেক কষ্ট করে চলছেন শ্রমিকরা।একটা মানুষ পেটে খিদা নিয়ে কাজ করবেন কীভাবে? আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই আমাদের মজুরী যেন দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু দলই ভ্যালীর সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, আমাদের শ্রমিকরা আজ তিন দিন ধরে টানা আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন। কিন্তু মালিকপক্ষ মজুরী পরিশোধ করছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।

ন্যাশনাল টি কোম্পানীর মহাব্যবস্থাপক এমদাদুল হক সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য তাঁরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এখন চা বাগানগুলোতে উৎপাদনের সময়। এখন যদি শ্রমিকেরা কর্মবিরতি চালিয়ে যান, তাহলে চা বাগান গুলি বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ