বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০ , ২০ ২৬
এড. শাকী শাহ ফরিদী
৩ ফেব্রুয়ারী ২০ ২১
৬:০ ৬ অপরাহ্ণ

আল জাজিরার রিপোর্ট, বাংলাদেশ বিরোধিতা এবং আমার ভাবনা: এড. শাকী শাহ ফরিদী

দূর্নীতি বাংলাদেশের পুরনো রোগ, সন্দেহের অবকাশ নেই যে প্রিয় বঙ্গমৃত্তিকায় দূর্নীতি ধরণ পাল্টেছে তবে নিঃশেষ হয়নি। শুধু বাংলাদেশে কেন পুরো পৃথিবীতেই এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা খোঁজে পাওয়া মুশকিল যেখানে সাধারণ অপরাধের সাথে সাথে "White Collar Crime"/"Corporate Crime" হয়না। A crime is a crime, জাস্টিফাই করছিনা বা কারো পক্ষে সাফাই গাইছিনা বরং দুনিয়ার নিরেট বাস্তবতাটাই বলছি- পৃথিবীতে সবাইই (আমি-তুমি-সে) নষ্ট কিন্তু গোপনে।

যাবতীয় দূর্নীতি তাই সদাই নিন্দনীয় এবং ঘৃণ্য, আশু প্রতিকার বরবারের মতই কাম্য। দূর্নীতি নিয়ে মিডিয়ার অনুসন্ধানও ভালো, তবে কে বা কারা একাকি নাকি সমন্বিতভাবে কাজটা করছে তা দেখাটা জরুরি, তাতেই পরিষ্কার হবে কোন টার্গেটে কে বা কারা করছে এগুলো, কেনইবা করছে, অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বা উদ্দেশ্যইবা কি, সামনে কারা আর পেছনে কারা ইত্যাদি ইত্যাদি৷ ভালোর জন্যে হলে সাধুবাদ, মন্দের জন্যে হলে নিন্দা।

আল জাজিরা- ভূতের মুখে রামনাম, বড্ড বেমানান। বাংলাদেশের আদালতের প্রতি আল জাজিরার ব্যাপক শ্রদ্ধা, তাইতো আদালতে দণ্ডিত আসামী পুলিশের রেড লাইনে থাকা ভ্রাতৃদ্বয়ের বিশ্ব ঘুরে বেড়ানো আর ব্যবসা করা নিয়ে তাদের এত উৎকন্ঠা, বাংলাদেশের আদালতের কাছে অপরাধী এমন ব্যক্তিদ্বয়কে তারাও অপরাধী মনে করে, এমন শ্রদ্ধাবোধ প্রশংসা কুড়ানোর মতো৷ কিন্তু এহেন শ্রদ্ধাবোধের ঠেলায় আল জাজিরা বেমালুম ভুলে গেছে "ডেভিড বার্গম্যান"ও বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক দন্ডিত অপরাধী এবং সেই দন্ডিত অপরাধীর উদ্ধৃতি তাদের রিপোর্টের চুম্বক অংশজূড়ে বিদ্যমান। তথাকথিত সামি মিলিটারি একাডেমি থেকে বহিস্কৃত হয়েছিল, তাও মাদক নেয়ার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে। তাসনিম খালেদ- আত্মস্বীকৃত নাস্তিক। আহা আল জাজিরা, একটু স্ববিরোধী হয়ে গেলো যে, অন্য কিছু লোক নিতেন এদের বদলে।

ন্যায়বিচারের দিকে ক্লিন হ্যান্ডে এগুতে হয়, সব অপরাধী আর ধান্ধাবাজদের নিয়ে আগালেতো বিসমিল্লাহ'য়-ই গলদ হয়ে যাবে৷ একবার আদালতের প্রতি ব্যাপক শ্রদ্ধা, একবার চরম অনাস্থা, একবার অপরাধীকে বাচানোর ঘৃণ্য অপচেষ্টা, আরেকবার অপরাধীকে কোলে নিয়ে একসাথে লংকা জয়ে নামা- হায়রে আল জাজিরা, একই অঙ্গে এত রূপ। ডেভিড বার্গম্যানঃ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা আসলে ৩ লাখ হবে এমন ব্লগ লিখে দেশের স্যাটল্ড ইস্যুতে ইতিহাস বিকৃতির নগ্নচেষ্টায় হাত দিয়ে দন্ডিত হয়েছিলেন এই বাংলাদেশ বিরোধী লোকটি, তাও বেশি আগে না।

আল জাজিরা দন্ডিত অপরাধী ডেভিডকে দিয়ে অপরাধের ব্যাপারে ফিরিস্তি দেয়, বাহ। যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর ব্যাপারে পাঁচ জন পাকিস্থানি নাগরিককে স্বাক্ষী দেওয়ানোর জোড় লবিং করেছিল এই ডেভিড, উনারা স্বাক্ষী দিতে চেয়েছিলেন যে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাকা পাকিস্তান ছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্যে এবং পরে তা শেষ করে দেশে ফেরেন৷ মজার কথা সর্বশেষ নির্বাচনে সাকা তার কাগজপত্রে নিজেই লিখেছেন- তিনি স্বশিক্ষিত, ডেভিডের আর মুখ থাকে কই। ডেভিডকে আদালতের ভেতর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল প্রতীকী শাস্তি স্বরুপ, সাথে ৫০০০ ফাইন অন্যথায় এক সপ্তাহ কারাদণ্ড।

আদালতের মতামত ছিল- "the criticism made on 'death figure in 1971' does not seem to have been made as one of 'public interests'. Rather it has shaken and demeaned the emotion of the nation.” Moreover, in the name of exercising right to freedom of expression, he [Bergman] has crossed the limits of his professional ethics.” সেই থেকে বার্গম্যানের রাগ, ক্ষোভ আরো বেড়েছে বাংলাদেশের উপর৷ কার পেইড এজেন্ট হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি আর পতাকার চরিত্র হননের দায়িত্ব নিয়েছে এই আদালত স্বীকৃত অপরাধী? তার মতামতে কি আসে যায়, তার মতামতে কিছু আসলে গেলে অনেক আগেই সে ষড়যন্ত্রে সফল হতো।

তাসনিম খলিলঃ আত্মস্বীকৃত নাস্তিক উনি, ১/১১ তে সেনা সমর্থিত তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে ডিজিএফআই এবং সেনা অফিসারদের হাতে তিনি আটক হন, কয়েকটি দেশের এম্বেসির স্পাই হয়ে কাজ করা এবং র‍্যাব, রাষ্ট্রীয় বাহিনীসহ দেশবিরোধী লিখার অভিযোগের কারনে সেসময় ডেইলি স্টারে কাজ করা এই সাংবাদিক পরে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি নেন যে তিনি আর এমন কাজ করবেননা। খলিল সরকারবিরোধী বা বিএনপি প্রীতিতে আসক্ত এমন না, সব দলের কিছু মানুষের সাথেই তার উঠাবসা আছে। ১/১১ পর থেকেই সে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বিরোধী, রাষ্ট্রীয় অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী, তার রাগ সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর উপর আর তাই সুযোগ পেলেই দেশপ্রেমি সেনাবাহিনীসহ সকল বাহিনীকে নিয়ে সে লাফায় উঠে, আল জাজিরা তাই সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে রিপোর্টে তাকেই কাজে লাগিয়েছে৷

ধর্মপ্রাণ বাঙালীকে এই আত্মস্বীকৃত নাস্তিক বিভ্রান্ত করতে চায়, সেনাবাহিনী আর সরকারের মাঝে মারামারি করাতে চায়৷ আর এসব কথা বললে সুইডেনে তার এসাইলাম প্রোটেকশনটাও আরেকটু মজবুত হয়, পাশাপাশি বড় অংকের টাকাও ঢুকে বালিশের নিচে। তথাকথিত সামিঃ নতুন আমদানি- এক্স ক্যাডেট, মাদক নেয়ার দায়ে অপরাধী হয়ে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে বহিষ্কৃত। তাই মিলিটারি দ্বারা বহিস্কৃত সামিও বাংলাদেশের দেশপ্রেমি সেনাবাহিনী বিরোধী, সুতরাং সে ঝোপ বুঝে কুপ মারার চেষ্টায়ই আছে আরকি।

বার্গম্যান, খলিল, সামি- সেনাবাহিনী, অন্যান্য বাহিনী এবং বাংলাদেশ নিয়ে তাদের যত চুলকানি, তাই চুলকানির মলম বিক্রেতা সেজেছে সবাই আর আল জাজিরার লাইট-ক্যামেরা-এ্যাকশন ভালো, পর্দার আড়ালে আছে বিশাল টাকার খেলা। লাইটে-ক্যামেরায়, চুলকানির মলমে আর কাচা টাকায় মিলেমিশে একাকার। আল জাজিরা একবার রিপোর্ট করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে বাংলাদেশ অশান্ত হবে, আদতে কিছুই হয়নি।

এমন প্রোপাগান্ডা, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নগ্ন হস্তক্ষেপ ইত্যাদির জন্যে মিশর, সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ কয়েক দেশ আল জাজিরাকে নিষিদ্ধ করেছিল, ক্বাদিয়ানিদের পক্ষপাতিত্ব করেও আল জাজিরা বদনাম কামিয়েছিল৷ মজার কথা, বেশ কয়েক দেশে আল জাজিরার নিজস্ব সাংবাদিকরা একাধিকবার এবং অনেকে চাকুরী ছেড়েছে এই বলে যে, তাদেরকে আল জাজিরা বাধ্য করছে জঙ্গিদের সাথে যোগাযোগ রাখা, হুকুমী নিউজ বানানোসহ নানান আদর্শ বিচ্যুত কাজে, এগুলো মিডিয়াতেই নিউজ কভারেজ পেয়েছে৷ তাদের নিজেদের সাংবাদিকরাইতো তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে চ্যানেল ছেড়েছে, ঘরে গ্রহনযোগ্যতা এমন হলেতো মুশকিল।

আল জাজিরার রিপোর্ট কোনো দলিল নয়, পক্ষে বিপক্ষে মতামত থাকবেই, ভিন্নমতের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রইল। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সরকার হঠানোতে মাঠে খরচ করে লাভ হচ্ছেনা তাই ভিন্ন ধান্ধায় ব্যতিব্যস্ত পুরনো কুশীলবরা। আগেও কিছু হয়নি, এবারও কিছু হবেনা, দেশ এগিয়ে যাচ্ছ এবং যাবে আরো ইনশাআল্লাহ। যারা আল জাজিরার রিপোর্ট দেখে শেখ হাসিনার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখছেন, তারা ভিপি নুরের ভিডিও দেখুন বেশি করে, আরাম পাবেন সাথে একটু স্পাইসও পাবেন। সেনাবাহিনী প্রধানের ফোন কল রেকর্ড, বিমানে তার পেছনে বসে তাকে গোপনে ভিডিও করা, ভিনদেশে তাকে ফলো করা ইত্যাদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যে হুমকি স্বরূপ।

একই কায়দায় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সকল রেকর্ডস নিয়েছে হয়তো৷ আজকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে খেলছে, কালকে খেলবে খালেদা জিয়াকে নিয়ে, পরশু খেলবে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে, আর মন্ত্রী-আমলারাতো মামুলি ব্যাপার। এভাবেই বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় খবর পাচার হবে, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক ডিলিংসগুলোর ক্ষেত্রে স্টেইট পলিসি ম্যাটারগুলো এমন আড়িপাতা মিডিয়া আগাম খবর পেয়ে বসবে, জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলবে।

নিশ্চয়ই একবার ফোনে আড়ি পেতে তারা টার্গেটেড খবর পায়নি, দুইবছর থেকে শোনেছে, একটা রাষ্ট্রের জন্যে কি ভয়ংকর ব্যাপার এটি। এইদেশের সরকার, বিরোধী দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিসহ সবারটাই শোনেছে আমার ধারনা, কে কোন পথে হাটছে তার খবর তারা আগাম নিয়ে নিচ্ছে গোপনে, সামগ্রিকভাবে এটা দেশের নিরাপত্তার জন্যে মারাত্মক হুমকির ব্যাপার। আজ শেখ হাসিনা বিরোধীরা মজা নিচ্ছেন, কাল খালেদা জিয়া বিরোধীরা মজা নিবেন, খেলবে ওরা সবাইকে নিয়েই, সময়ে সময়ে৷ আমরা ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন চিন্তায় মজা নেয়ার টেন্ডেন্সিতে মজে আর সরকার বদলের আশায় দেশকে বিপদে ফেলে দিতে পারিনা৷ সবাই মিলেই দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার হেফাজত করা জরুরি। সব আমলের সব প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনী প্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের সবাইকে নিয়েই খেলবে ওরা, রুখতে হবে সবাই মিলেই।

আজকে ম্যা বি যারা টাকা ঢালছেন, সেই রেকর্ডসগুলোও রাখবে আল জাজিরা, আপনাদের চরিত্র হননেও নামবে তারা, সময়ের ব্যবধানে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় দেশীয় ব্যবস্থাতেই নিরসনযোগ্য হউক, আইনের প্রয়োগ হউক দরকারমতো। কোনো ভুল বুঝাবুঝি তৈরি না হোক, সরকার-জনগন-সকল বাহিনী-সকল পেশাজীবি-আমলা-কামলা-রাজনীতিবিদ,ছাত্র-জনতা সবাই যার যার জায়গা থেকে দেশের প্রশ্নে এক হয়ে কাজ করতে হবে৷

এই দেশটা উঠবে, আমাদেরকেই উঠাতে হবে৷ পদ্মাসেতু দূর্নীতি নিয়ে অনেক কিচ্ছাকাহিনী হয়েছে, আজ সব ভুল প্রমান করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের পদ্মাসেতু। মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। বিদেশের মতো এক্সপ্রেসওয়ে বহুমুখী পিচঢালা রাস্তায় পরিবেষ্টিত আজ বাংলাদেশ, আমার ছেলেবেলার সন্ধ্যানামা লোডশেডিং অন্ধকার আর লন্ঠনের আধো আলো-ছায়ার বাংলাদেশ আজ আলোর ঝলকানিতে ভরাযৌবনা, স্পেইসে আজ আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট, বঙ্গপসাগরে আজ আমাদের নিজস্ব সাবমেরিন, ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় পুরো বিশ্বের সাথে আজ স্মার্টলি কানেক্টড আমার বাংলাদেশ, আজ একসাথে একদিনে ৭০ হাজার গৃহহীন মানুষকে বাড়ি উপহার দেয় আমার বাংলাদেশ, ১০ লক্ষ নিপীড়িত মুসলিম রোহিঙ্গাদের গর্বিত আশ্রয়দাতা এবং ভরণপোষণদাতা আমার বাংলাদেশ৷

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার করে কলংকমুক্ত এবং জাতীয় দায়মুক্ত আমার বাংলাদেশ, অর্থনীতির সকল সূচকে কত উপরে এখন আমার বাংলাদেশ আর এই সব কিছুই সম্ভব হয়েছে একজন দৃঢ়চেতা, ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে এগিয়ে চলা, বিচক্ষণ, দেশপ্রেমি শেখ হাসিনার নেতৃত্বগূণের জন্যে। দেশজুড়ে কাজ চলছে, দেশ গড়ার কাজ চলছে, সময় এখন মাথা উঁচু করে স্বমহিমায় দাঁড়াবার। ষড়যন্ত্র হয়েছে, হচ্ছে এবং আরো হবে, সব রুখে উঠে দাঁড়াচ্ছে আমার বাংলাদেশ

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ