বুধবার, মে ২৭, ২০ ২৬
কুলাউড়া প্রতিনিধি::
৫ সেপ্টেম্বর ২০ ২৪
৭:২৫ অপরাহ্ণ

কুলাউড়ায় শরিফপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সুন্দরভাবে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করায় ওই মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে স্বাভাবিক অবস্থানকে বিতর্কিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় গুটিকয়েক ব্যক্তি তাদের স¦ার্থ হাসিলের জন্য এলাকায় কিছু অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে চায়। কুলাউড়া উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, আমাকে জড়িয়ে গত ২৮ আগস্ট একটি মহল সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূয়া প্রত্যায়নপত্র ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে। আব্দুর রহমান নামে যিনি অভিযোগ করেছেন তাঁর দখলে সরকারের খাস জমি ছিলো। প্রশাসন দখলীয় খাস জমি উদ্ধার করে আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৬টি ঘর নির্মাণ করেন।

এছাড়াও বীরাঙ্গনা মহিলাকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১টি ‘বীর নিবাস’ ঘর বরাদ্দ দেন। উক্ত জায়গাটিও খাস খতিয়ানের জায়গা এবং আব্দুর রহমানের দখলে ছিলো। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা হয় তৎকালীন চেয়ারম্যান জনাব আলীর সময়ে। বাস্তবায়ন আমার সময়ে হওয়ায় এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রহমান আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেন। আরেক অভিযোগকারী জুবায়ের আহমদ নেপুর ও আমার শশুর আব্দুল বাসিতের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

মানগাঁও মৌজায় ওই জায়গার অবস্থান হওয়ায় চেয়ারম্যান হিসেবে আমার কাছ থেকে একটি প্রত্যায়ন নেন আব্দুল বাসিত। এসএ ফরসার আলোকে ওই প্রত্যায়ন দেওয়ায় জুবায়ের আহমদ নেপুর আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং তারই ফুফাতো ভাই আব্দুর রহমানকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। মানগাঁও গ্রামের জয়শীল আমার ওপর জায়গা দখলের অভিযোগ তুলেন তা ভিত্তিহীন। ১৯৯৩ সালে আমি জায়গা ক্রয় করে মানগাঁওয়ে আসি।

ওই সময় ইছন মিয়ার কাছ থেকে ৩৮৯৩ নং দলিলমূলে ১ একর ২২ শতক জায়গা ক্রয় করি। ক্রয়কৃত জায়গা থেকে দুই দফায় ৪৭ শতক জমি বিক্রি করেছি। চেয়ারম্যান হওয়ার আগেও আমি ১৯৯৮ সালে ওই ওয়ার্ডে মেম্বার নির্বাচিত হই। দীর্ঘ ৩০ বছর থেকে মানুষের বিচার-আচার, নানা সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত ছিলাম।

ইউনিয়নবাসী আমাকে ভালোবাসে বিধায় ২০২১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন চেয়ারম্যান জনাব আলী ও নৌকার প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন চিনুকে পরাজিত করে ৫৬৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হই। নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী ২ বছর ৯ মাসে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এসবেই ওই মহল আমার ওপর ঈর্ষান্বিত । চেয়ারম্যান আরও জানান, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর কয়েক কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি।

বিশেষ করে চাতলাপুর বাগানে ২৯ লক্ষ টাকার ইট সলিং, সঞ্জয়পুর-নিশ্চিন্তপুর রাস্তায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজ। নিশ্চিন্তপুর রাস্তা নতুন করে ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাকাকরণ, লালারচক রাস্তায় ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাকা রাস্তা পূণর্নির্মাণ, সঞ্জরপুর-হরিপুর নতুন রাস্তা ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাকাকরণ, মনোহরপুর রাস্তা ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাকাকরণ, নছিরগঞ্জ বাজারে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মান ও আমতলা বাজারে সেড ঘর নির্মান করি। এছাড়াও বিনা ভোগান্তিতে সকল নাগরিক সেবা দ্রুত দিচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার ইসলামী ভাবধারায় বিশ্বাসী। মানুষের জানমাল ও আমানত রক্ষায় হক এবং ন্যায়ের পথে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমৃত্যু শরিফপুরবাসীর পাশেই আমি থাকব।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ