৮:৪৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ সুরমায় প্রবাসীকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে ব'ঞ্চিত করার অভি'যোগ
পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ, জাল দলিল তৈরি এবং সম্পত্তির ভাড়া থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী নগরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কায়েস্থরাইল এলাকার মরহুম আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে মো. রুহুল ইসলাম ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেশে থাকা ভাইদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। লিখিত বক্তব্যে রুহুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে স্ত্রী শিফা বেগম, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের প্রতিষ্ঠিত করতে নিয়মিত অর্থ পাঠিয়েছেন।
বড় ভাই নজরুল ইসলামের মেয়ের বিয়েসহ দুই বোনের বিয়ে এবং অন্যান্য ভাইদের প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও তিনি আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তবে বর্তমানে দেশে থাকা ভাইদের বিরুদ্ধে তাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করে রুহুল ইসলাম বলেন, পৈত্রিক বাড়ির সম্পত্তি অন্য ভাইয়েরা নিজেদের নামে দলিল করে নিয়েছেন।
এর মধ্যে ২০০০ সালে তৈরি ৭১২৩ নম্বর দলিলটি জাল বলে দাবি করেন তিনি। রুহুল ইসলাম বলেন, ওই দলিলে তার স্বাক্ষর জাল করে তাকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। দলিলের নকল সংগ্রহের পর নিজের স্বাক্ষর দেখে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
তার ভাষ্য, দলিলটি যে সময় রেজিস্ট্রি করা হয়, তখন তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। এ ছাড়া তার স্ত্রী শিফা বেগমের কাবিনে দেওয়া চার শতক জমিও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল ইসলাম। তার দাবি, তার মা কাবিনের অংশ হিসেবে ওই জমি তার স্ত্রীকে দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, পৈত্রিক সম্পত্তির দোকান ও বাড়ি থেকে ভাড়া আদায়েও তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
তার দাবি, দোকানদাররা তাকে ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, তার ভাইদের নিষেধ রয়েছে। বাড়ির ভাড়াটিয়ারাও তাকে ভাড়া দিতে চান না বলে অভিযোগ করেন তিনি। রুহুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য অর্থ পাঠালেও বর্তমানে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি তার অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় মুরব্বিদের জানিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।