৩:২২ অপরাহ্ণ
জগন্নাথপুরে প্রবাসীরা মাদ্রাসায় টাকা ও জমি দিয়ে হলেন মামলার আসামী
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে যে মাদ্রাসায় সারা জীবন টাকা ও জমি দিয়ে সহায়তা প্রদান করলেন দানবীর প্রবাসীরা। এখন সেই মাদ্রাসা কর্তৃক মামলার আসামী হলেন নুর মিয়া, তেরাব আলী ও আলতাব আলী সহ দানবীর প্রবাসী বন্ধুরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দেশ/বিদেশে বইছে প্রতিবাদের ঝড়।
জানাগেছে, ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবাসীদের উদ্যোগে “ডোনার লন্ডন প্রাইভেট ফান্ড” গঠন করা হয়। ২০০৯ সালে এ ফান্ডের প্রবাসী আবদুর রহিম, আলতাব আলী (আলফু) ও নুর মিয়ার যৌথ নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। শর্ত থাকে এ ৩ জনের মধ্যে যে কোন ২ জনের স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে এবং ফান্ডের মূলধন ৪০ লাখ টাকা বহাল রেখে অভ্যাংশ থেকে বাংলাদেশে থাকা হলিয়ারপাড়া ফাযিল মাদ্রাসায় আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।
এর মধ্যে ২০২১ সালে প্রবাসী আবদুর রহিম ও আলতাব আলী (আলফু) মিলে আরেকটি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলে ফান্ডের টাকা সরিয়ে নেয়া হয়। এতে তাদের আরেক ডোনার নুর মিয়াকে বাদ দিয়ে আবদুর রহিমের ভাগনা বাংলাদেশে থাকা হলিয়ারপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক মহি উদ্দিন এমরানের নাম যুক্ত করা হয়।
পরে মাদ্রাসা ও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে আরো বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট করে টাকাগুলো ভাগভাগ করে নেয়া হয়। যা ডোনার নুর মিয়া জানেন না। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে ঘটনাটি জানতে পেরে প্রবাসী নুর মিয়া জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের কোন সুরাহা হওয়ার আগেই তিনি আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। এদিকে-চলতি ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে থাকা প্রবাসী নুর মিয়া, তেরাব আলী ও আলতাব আলী সহ ৩ জন প্রবাসীকে আসামী করে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের হলিয়ারপাড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম পারভেজ বাদী হয়ে আদালতে ৫০ কোটি টাকার মানহানি ও আরেকটি ফৌজদারি মামলা করেন। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রবাসী নুর মিয়া দেশে ফিরে হতবাক হয়ে যান। অবশেষে প্রবাসী নুর মিয়া বাদী সুনামগঞ্জ আদালতে প্রবাসী আবদুর রহিম, হলিয়ারপাড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম পারভেজ সহ ৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার দানবীর প্রবাসী নুর মিয়া হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা জীবন আমরা প্রবাসীরা মাদ্রাসায় টাকা ও জমি দিয়ে এখন মিথ্যা মামলার আসামী হলাম। আমাদের ফান্ডের টাকা তারা আত্মসাৎ করে এখন উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানী ও মানহানি করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ কামনা করে অনতিবিলম্বে প্রবাসীদের মধ্যে দ্বন্ধ সৃষ্টিকারী অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম পারভেজের অপসারণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে যুক্তরাজ্যে থাকায় প্রবাসী আবদুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হলিয়ারপাড়া মাদ্রাসা গভর্নিংবডির সভাপতি ফয়জুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় প্রবাসী নুর মিয়া থানায় জিডি করেন। জিডিতে খারাপ ভাষা ব্যবহার করায় আবদুর রহিম ও আবদুল আজিজের কথায় অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম পারভেজ মামলা করেছেন। এর সাথে মাদ্রাসা গভনির্ংবডি জড়িত নয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মইনুল ইসলাম পারভেজ বলেন, এখন কথা বলার সময় নেই।
এসব লম্বা কাহিনী। বসে আলোচনা করতে হবে। কাগজপত্র দেখার প্রয়োজন আছে। অপরদিকে-এলাকার গণ্যমান্য শালিসি ও দানবীর প্রবাসীদের মামলায় আসামী করার ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অন্যান্য প্রবাসীরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে অন্য প্রবাসীদের মধ্যে অনেকে নাম প্রকাশ না করে জানান, আমরা প্রবাসীরা অনেক পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠাই। আমাদের পাঠানো টাকায় দেশের অর্থনীতি সচল থাকে।
আমরা দেশের বিভিন্ন উন্নয়নে সর্বদা সহযোগিতা করি। দেশের অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করি এবং আর্তমানবতার সেবায় পাশে দাঁড়াই। এতোকিছুর পরও মাতৃভূমিতে গিয়ে যখন আমাদের নানা হয়রানী ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়, তখন আর সহ্য করতে পারিনা। প্রবাসী নুর মিয়া তার ব্যক্তি স্বার্থে প্রতিবাদ করছেন না, তিনি আমরা প্রবাসীদের জমানো ফান্ডের টাকা ফান্ডে ফেরত পেতে লড়াই করছেন। প্রতিবাদ করতে গিয়েই প্রবাসী নুর মিয়া, তেরাব আলী ও আলতাব আলী মামলার আসামী হলেন। তাই আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের কষ্টের বিষয়গুলোকে সরকার ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে এবং অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।