বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০ ২৬
নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া
৭ অক্টোবর ২০ ২৬
১১:১৯ অপরাহ্ণ

চরম জনবল সংকটে ধুঁকছে প্রাথমিক শিক্ষা
কুলাউড়ায় ৬৫ স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম

কুলাউড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ ৬৫ স্কুলে চরম জনবল সংকটে ধুঁকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জনবল সংকটের কারনে শিক্ষাক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রাথমকি শিক্ষা অফিসে ৯জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে ২জন কর্মরত থাকলেও ৭জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ এখনো শূণ্য। উপজেলা জুড়ে ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ৬৫ স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এছাড়াও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা পদে ১০১টি পদ শূণ্য রয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদে ৯জনের বিপরিতে মাত্র ২জন কর্মরত আছেন। তারা হলেন- সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ও মো. মাহমুদ হোসাইন।

এছাড়াও উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে ১জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটার পদে ৪ জনের মধ্যে ৩জন, হিসাব সহকারী পদে ১জন ও অফিস সহায়ক পদে ১জন এসব পদটি দীর্ঘদিন থেকে শূণ্য রয়েছে।

ফলে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বৃহত্তম কুলাউড়া উপজেলার স্কুলগুলো তদারকি করতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানাসহ ২ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা।

কুলাউড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৯৩টি। এর বিপরীতে ১২৮টি স্কুলে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এবং ৬৫টি প্রাথমিক স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে চলছে স্কুলের প্রশাসনিকসহ সকল কার্যক্রম।

অপর দিকে কুলাউড়ায় সহকারী শিক্ষকের ৯৮৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৮৮ জন। যারফলে সহকারী শিক্ষক পদে ১০১টি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।

এদিকে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে বিভিন্ন স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় সেই সকল স্কুলে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয় অধিকাংশ লোকজন জানান।

বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠানকে। কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদে নিয়োগ ও পদায়ন হলে শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমে আসবে। মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনিছুর রহমান জানান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পুরো জেলায় ৪৪ জনের মধ্যে মাত্র ১১জন কর্মরত রয়েছেন। তাই কুলাউড়ায় এই সংকট।

এছাড়াও সহকারী শিক্ষক পদে পুরো জেলায় নতুন করে ৩৩৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই তাদের ট্রেনিং কার্যক্রম শেষ করে বিভিন্ন স্কুলে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

প্রধান শিক্ষক পদে যে সংকট রয়েছে সেগুলো পূরণ করতে ইতিমধ্যে শিক্ষকদের মধ্যে প্রমোশন দেওয়ার জন্য আমাদের একটি টিম কাজ করছে। অচিরেই ওই সকল স্কুলে ভারপ্রাপ্তদের চাপ কমিয়ে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ