৮:০ ১ অপরাহ্ণ
বড়লেখায় মসজিদ নির্মানে আধিপত্যবাদীদের বাধাঁ, কমিটির উপর হামলা-মামলা
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের বড়থল গ্রামে 'বড়থল পাঞ্জেগানা জামে মসজিদ' নির্মান কাজে আধিপত্যবাদীদের বাধাঁ ও কমিটির উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার উক্ত মসজিদে পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় মসজিদের ডিজাইন ও নির্মান কাজের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন মসজিদ কমিটির সদস্য বিলাল মিয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মসজিদ কমিটির মোতায়াল্লি, আরমান মিয়া, সেক্রেটারী রায়হান মিয়া, ওয়ার্ড মেম্বার মুতলিব মিয়া, ক্যাসিয়ার কামাল মিয়া, সদস্য ছমছু মিয়া, ৯ নং সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার হাছনা বেগম, ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার রাহেলা আক্তার সুমি।
মুসল্লিরা বলেন, মসজিদের কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র। তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মসজিদ কমিটির মেম্বারদের নিয়ে নানা অশালীন বক্তব্য প্রচার করতে থাকে। এ নিয়ে এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ গত ৩ মে বড়থল মসজিদ প্রাঙ্গনে এক সালিশ বসে। সালিশে প্রতিপক্ষের লোকজন মসজিদ কমিটির পক্ষের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এই মসজিদের কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র। তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মসজিদ কমিটির মেম্বারদের নিয়ে নানা অশালীন বক্তব্য প্রচার করতে থাকে। এ নিয়ে এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ গত ৩ মে বড়থল মসজিদ প্রাঙ্গনে এক সালিশ বসে।
সালিশে প্রতিপক্ষের লোকজন মসজিদ কমিটির পক্ষের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় বড়থল ও প্রতিবশী চিন্তাপুর গ্রামের ৪ জন গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন-রুবেল আহমদ, খলিল আহমদ, ছলু মিয়া ও ময়নুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে বড়লেখা হাসপাতালে এবং আহত খলিল আহমদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় চিন্তাপুর গ্রামের সেলিম উদ্দিন বড়লেখা থানায় ১২ জনকে এজারভুক্ত করে ২০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যা বড়লেখা থানার মামলা নং-০৪(৫)২৪। মামলার আসামীরা হলেন-বড়লেখার বড়থল গ্রামের সুমন আহমদ,সেলিম মিয়া, আশুক মিয়া, আত্তর মিয়া, ভুগা চানপুরের হাসান, বড়থল গ্রামের মাহমদ, পারভেজ, আব্দুল কাদির,আবুল হোসেন, সবু মিয়া, আনছার,ইমনসহ অজ্ঞাতনামা ৮ জন।
আসামীদের সিংহভাগ পলাতক রয়েছেন এবং পরবর্তীতে তারা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার এসআই আতাউর গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর আসামীদের ৪ জন আদালতে আত্মসমর্পম করলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
পলাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ দিকে মসজিদের উন্নয়ন কাজে বাধা দিতে গিয়ে গত ১০ এপ্রিল মসজিদ কমিটির উপর সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বড়থল গ্রামের সেলিম আহমদের নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একদল সশস্ত্র লোক মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপর হামলে পড়ে ।
তারা কমিটির সদস্য মারজান আহমদ, উলি উদ্দিন, মিজান আহমদ সহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে মসজিদ কমিটির সদস্য বিলালের ঘরে প্রবেশ করে লুটপাট চালিয়ে কমিটির সদস্যদের মোবাইল ফোনসহ নগদ আড়াই লক্ষটাকা ছিনিয়ে নেয় এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এ ঘটনায় বড়থল পাঞ্জেগানা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ আরমান আলী গত ৭ মে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনকে এজাহারভুক্ত করে অজ্ঞাতনামাসহ ৩৮ জনকে আসামী করা হয়।
মামলায় এজারভুক্ত আসামীরা হলেন-বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের বড়থল গ্রামের সেলিম আহমদ, আসুক মিয়া, আনছার মিয়া, সবু মিয়া, মাহমদ মিয়া, আবুল হোসেন, সুমন আহমদ, ইমন আহমদ, পারভেজ, আব্দুল কাদির, জাহেদ আহমদ, আত্তর মিয়া ও জসীম।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বড়লেখা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
বড়লেখার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের সেরেস্তা মামলা গ্রহনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলীও হামলা ও মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।