৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে পথকুকুরদের জলা'তঙ্ক প্রতি'রোধী টিকাদান ও খাবার বিতরণ
সিলেট নগরীর পথপ্রাণীদের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসে একদল প্রাণিপ্রেমী মানুষের উদ্যোগে পথকুকুরদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান (রেবিস ভ্যাক্সিন) ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (০৫ মে ২০২৬) ‘এনিমেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, সিলেট’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী টিমের এই উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫৬টি কুকুরকে ভ্যাক্সিন প্রদান করা হয়।
টিকাদান শেষে কুকুরগুলোকে মুরগির মাংসের খিচুড়ি খেতে দেওয়া হয়। সিলেটের একদল নিবেদিতপ্রাণ প্রাণিপ্রেমীর প্রচেষ্টায় পরিচালিত এই কার্যক্রমে কারিগরি ও চিকিৎসা সহায়তায় ছিলেন বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল (বিভিসি) নিবন্ধিত তিন চিকিৎসক ডাঃ রুপন ইসলাম শুভ, ডাঃ জাহিদুল ইসলাম জুয়েল এবং ডাঃ শফিকুল ইসলাম। উনারা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত এবং শ্রীমঙ্গল ‘পেট অ্যান্ড ভেট কেয়ার’-এ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।
ডাঃ শফিকুল ইসলামও ‘সিলেট পও হেল্থ কেয়ার’-এ চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই মানবিক আয়োজনের নেপথ্যে পৃষ্ঠপোষক ও অর্থায়নকারী হিসেবে ছিলেন নগরীর মিরাবাজার আগপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাজিয়া খান। দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে অসুস্থ ও অসহায় প্রাণীদের উদ্ধার এবং চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করে আসা সাজিয়া খান এই কর্মসূচির মাধ্যমে পথপ্রাণীদের অধিকার রক্ষায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার মিতা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থী শ্যাম কুমার যাদব এবং ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. আল আমিন, মুবতাসিম ফুয়াদ রওনক ও আল গালীব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ মোহাইনমিন মুন। সংহতি প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে যোগ দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল। আয়োজন সম্পর্কে প্রাণিপ্রেমী সাজিয়া খান বলেন, “শহরের এই অবলা প্রাণীগুলো আমাদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তারা সুস্থ থাকলে সমাজ নিরাপদ থাকবে-এই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আজকের আয়োজন। কেবল খাবার নয়, তাদের সুচিকিৎসা ও ভ্যাক্সিনেশন নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের সামান্য সহানুভূতিই পারে এই প্রাণীগুলোর জীবন বদলে দিতে।” ভ্যাক্সিনেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে ডাঃ জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, “জলাতঙ্ক একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক সময়ে ভ্যাক্সিনেশন নিশ্চিত করলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে ৫৬টি কুকুরকে টিকা দিয়েছি।”
পুরো কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে ডাঃ রুপন ইসলাম শুভ বলেন, “একটি বাসযোগ্য শহর গড়তে মানুষ এবং প্রাণী-উভয়ের সহাবস্থান নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি ছাড়াই কেবল প্রাণিপ্রেমের তাগিদে আমরা একত্রিত হয়েছি। প্রাণীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিষ্ঠুরতা বন্ধ করাই আমাদের লক্ষ্য। আজকের এই কার্যক্রম সেই দীর্ঘ যাত্রার প্রথম ধাপ।” উল্লেখ্য, এটিই ছিল এই স্বেচ্ছাসেবী টিমের প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন। ভবিষ্যতে সিলেটের প্রতিটি এলাকায় এ ধরণের সচেতনতামূলক ও সেবাধর্মী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কমিটির চেয়ে কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এই তরুণদের উদ্যোগটি ইতোমধ্যে নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।