রবিবার, জুলাই ১৯, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
২২ জুন ২০ ১৬
৩:৩৪ অপরাহ্ণ

নৌ দুর্ঘটনা :হাওর নিরাপদ হবে কবে

রুবেল আহমদ:: সম্পদ, সৌন্দর্য আর সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হাওরে আমরা যখন পর্যটন সম্ভাবনার কথা বলছি তখন সেখানে প্রায়শই নৌ দুর্ঘটনা উদ্বেগের কারণ হিসেবে হাজির হচ্ছে। বিশেষ করে প্রায় এক মাসের মাথায় হাওরে বড় দুটি নৌযানডুবি এবং অন্তত আটাশ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু সেখানে কেবল অশ্রুই ঝরায়নি, পর্যটক ও হাওরের মানুষের নিরাপত্তার জন্যও বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। বড় দুটি দুর্ঘটনা ছাড়াও এর মাঝে এবং আগেও ছোটখাটো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক-দুইজন করে প্রাণহানি হলেও টনক নড়েনি কারোই। 'মুনাফার লোভে ট্রলার বদলেই দুর্ঘটনা' শীর্ষক প্রতিবেদনে সর্বশেষ অঘটনের যে কারণ উঠে এসেছে, তাতে আমরা বিস্মিত না হয়ে পারি না। বুধবার নির্ধারিত নৌযানটি যাত্রী পরিবহন না করে বিয়ের ভাড়ায় যাওয়ায়, তার বদলে ফিটনেসবিহীন নৌযানে যাত্রী পরিবহন করায় গুমাই নদীতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদকের কাছে এলাকাবাসী যে অভিযোগ করেছেন, তা গুরুতর। নির্ধারিত নৌযানটি ছিল কাঠের তৈরি। তার পরিবর্তে প্লেনশিট দিয়ে তৈরি হওয়ায় এবং চালকের অদক্ষতায় পরিবর্তিত নৌযানটি ডুবে যায়। সবচেয়ে বড় বিষয়, নৌযানটিতে কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছিল না। এখানে একই সঙ্গে একাধিক অনিয়ম ঘটলেও যেন দেখার কেউ নেই! অথচ এ দুর্ঘটনার পরদিনই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এক অনলাইন আলোচনায় বলেন, 'হাওরভিত্তিক পর্যটন জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। হাওরে ভ্রমণ করতে যাওয়া পর্যটকরা যাতে নিরাপদে তাদের ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারেন সেদিকে স্থানীয় প্রশাসনের খেয়াল রাখতে হবে।' তার সঙ্গে একমত পোষণ করে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির বিষয়ে জোর দিতে চাই। আমরা মনে করি, হাওরে এভাবে দুর্ঘটনা ঘটতে থাকলে, পর্যটকসহ স্থানীয়দের ভ্রমণ নিরাপদ করতে না পারলে, হাওরে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। হাওরে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের ফিটনেস ঠিক আছে কিনা, চালক দক্ষ কিনা, আবহাওয়া অনুকূল কিনা প্রভৃতি বিষয়ে নজর দেওয়া চাই। প্রতিটি যাত্রীবাহী নৌযানে 'লাইফ জ্যাকেট' রাখা বাধ্যতামূলক করতেই হবে। এসব ক্ষেত্রে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনার মাধ্যমে হাওরে ভ্রমণে শৃঙ্খলা আসতে পারে। একই সঙ্গে আমরা চাই, বর্ষায় হাওরে যারা বেড়াতে যাবেন তাদের যাতে সাঁতার শেখা থাকে।

 

নদীমাতৃক দেশ হিসেবে জাতীয়ভাবে প্রত্যেক নাগরিকের সাঁতার শেখা জরুরি। আমরা দেখছি, শীত ও গ্রীষ্ফ্ম দুই ঋতুতে হাওর দুই রূপ ধারণ করে। শীতের শুকনো মৌসুমে হাওর যেখানে সোনালি ফসলের দিগন্তজোড়া মাঠ, বর্ষায় সেটি থইথই করা কূলকিনারাহীন সাগরের মতো সীমাহীন জলাধার। যদিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে উভয় ঋতুই চিত্তাকর্ষক, তারপরও বর্ষায় হাওরে পর্যটক বেশি দেখা যায়। আমরা মনে করি, হাওরের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে একে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। হাওর এমনিতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে হাওরে অসাধারণ পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে পারে। আমরা জানি, হাওর সাগরের মতো এত গভীর নয়। তাই সাধারণ কিছু সতর্কতাই সেখানে নৌ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকেই উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক প্রতিবেদকের কাছে বলেছেন, 'নৌযানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অতীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।' আমরা চাই, ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকুক। আর প্রতিটি নৌযানে যাত্রীর আনুপাতিক হারে 'লাইফ জ্যাকেটে'র ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের নজরদারি ও তদারকি চাই। সব পক্ষ আন্তরিক, সতর্ক, সচেতন হলে বৃহত্তর পর্যটন সম্ভাবনা যেমন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তেমনি কমে আসবে ঝুঁকি ও প্রাণহানি।

লেখক: কলামিস্ট, প্রবাসী।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ