বুধবার, মে ২৭, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন,কমলগঞ্জ::
১০ ফেব্রুয়ারী ২০ ২৩
৬:৫২ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে অর্থের জন্য থেমে যাচ্ছে ঋতু ও রাত্রী নামের দুই মেধাবীর ভবিষ্যৎ

শুধুমাত্র অর্থের অভাবে ভালো রেজাল্ট করেও মেধাবী দুই ছাত্রীর ভবিষৎ অনিশ্চিত হতে চলেছে। এই মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর নাম জান্নাতুল কারিমা ঋতু ও বর্ষা চক্রবর্তী রাত্রী। দু'জন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা। দু'জনই হতে চায় ডাক্তার। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়াটা কাল্পনিক হয়ে দাড়িয়েছে।

জান্নাতুল কারিমা ঋতুর বাবা পেশায় একজন কৃষক ও মা গৃহিনীর কাজ করেন। অন্যদিকে বর্ষা চক্রবর্তী রাত্রীর বাবা ছাত্র পড়িয়ে জীবন পার করেছেন এখন বেকার। মায়ের ছোট একটা চাকরির টাকা দিয়ে চলে পুরো সংসার ও তাদের পড়াশোনার খরচ। জানা যায়, জান্নাতুল কারিমা ঋতু হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। মা বাবা কষ্ট করে এ পর্যন্ত পড়িয়েছেন।

ঋতু জেএসসিতে ৪.২৮ ও এসএসসি পরীক্ষায় ২০২০ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করে। পরে কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহা বিদ্যালয় থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে। কিন্তু পারিবারিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।

৬ সদস্যের সংসারটি বাবার কৃষি কাজের উপরই নির্ভরশীল।অর্থের অভাবে ডাক্তার হওয়ার সে স্বপ্ন ঋতুর স্বপ্নই থেকে যাবে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মায়ের উপড় ভরসা করেই চলছে বর্ষা চক্রবর্তী রাত্রীর পরিবার । পিতা ঝুলন চক্রবর্তী দীর্ঘ ৩৫বছর বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্র ছাত্রীদের পড়িয়ে জীবন পার করেছেন। বর্ষার মা এই ছিল তার পড়ালেখার একমাত্র ভরসা।

মায়ের সামান্য আয়ে চলতো তাদের ৮ সদস্যের সংসার। তার মাঝে পড়ালেখার খরচ। ছোটকাল থেকে স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবার। চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার। তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় সব স্বপ্ন ব্যস্তে যাবে। রাত্রী জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, এসএসসি তে জিপিএ-৫ ও এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। আলাপকালে জান্নাতুল কারিমা ঋতু জানায়,‘আমি খুব পরিবারের সন্তান।

আমার খুব ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। ডাক্তার হয়ে মানুষকে ফ্রী চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো। সবাই তো স্বপ্ন দেখে,আমিও দেখেছিলাম কিন্তু আমার স্বপ্ন এমন যে তা পুরণ হওয়ার নয়। কিন্তু আমি ডাক্তার হতে চাই,আমায় পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিন। সরকারি বা বেসরকারি ও বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতা চাই। আপনারা আমায় সহযোগীতা করুন। অন্যদিকে বর্ষা চক্রবর্তী রাত্রী জানায়,আমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবো। স্যাররা যখন ক্লাসে বলতেন তুমি কি হবে? উত্তরে বলতাম স্যার আমি ডাক্তার হবো।

আজ যখন একটা পর্যায়ে আসলাম এখন সেই স্বপ্ন বাস্তব হবে কি সন্দেহ আছে। বাবা বেকার মা ছোট একটা চাকরি করেন।মায়ের আয়ের উপর আমাদের সংসার চলে। কত বড় আমাদের একটা পরিবার। কিভাবে মা সংসার বা আমার পড়াশোর খরচ বহন করবে। সেটা নিয়ে চিন্তায় এখন দিন পার করছি। চেয়েছিলাম ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবো।

অসহায়দের পাশে থাকবো। জানিনা সে আশা টুকু পুরণ হবে কিনা। আমি সকলের সহযোগীতা চাই। আমার স্বপ্ন পূরন করতে সকলের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি।আমাকে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিন।

শুক্রবার (১০ডিসেম্বর) দুপুরে অদম্য দুই মেধাবী ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,মেয়েদের এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় চোখে মুখে হাসি থাকলেও দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন মেয়েদের ভর্তির টাকা নিয়ে। কিভাবে জোগার করবেন ভর্তির টাকা। নিজের ভিটে-বাড়ি, জমিজমাও নাই যে বিক্রি করবেন।

জান্নাতুল কারিমা ঋতুর বাবা ফখর উদ্দিন জানান, মেয়েটা ছোট থেকেই মেধাবী। যার কারণে ওর লেখাপড়ায় কোন ভাটা পড়ুক তা চাইনি। কষ্ট করেই পড়িয়ে যাচ্ছি। কিভাবে যে তার ভর্তি পরীক্ষা জোগার করবো কোন কুল কিনারা পাচ্ছি না। যদি কেউ সহযোগিতায় আসতেন, তাহলে মেয়েটার স্বপ্ন পূরণ হতো। অশ্রুঝরা চোখে মেধাবী ছাত্রী বর্ষা চক্রবর্তী রাত্রীর বাবা ঝুলন চক্রবর্তী জানায়,‘মেয়েকে কখনো অভাব বুঝতে দেইনি। আমি বিনা পারিশ্রমিকে ৩৬টা বছর ছাত্র ছাত্রী পড়িয়ে জীবন পার করেছি।

আমার স্ত্রী ছোট একটা পদে চাকরি করে। তার বেতন দিয়ে আমাদের সংসার ও তার পড়াশোনার খরচ চালাতো। আমার মেয়েটা অনেক মেধাবী। ওর স্বপ্ন অনেক বড় চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে থাকবে।কিন্তু অর্থাভাবে আমার মেয়েটার স্বপ্ন ভেঙ্গে যেন না যায়। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতা চাই।

আলাপকালে এই এলাকার পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ জানান,"অদম্য মেধাবী দুই ছাত্রী সেরা পুরুষ্কার তাদের মা বাবার পাশাপাশি আমাদের দিয়েছে। সেটা ভাগ্যের বিষয়। আমি আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগীতা করার সেটুকু করবো। এখন ভর্তিসহ লেখাপড়া চালিয়ে যেতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। সমাজের বিত্তশালীদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ