সোমবার, জুলাই ২০ , ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
৬ এপ্রিল ২০ ২৬
৭:৩৩ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে ২য় বারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি ধর্মীয় উৎসব “লাই হারাওবা”

মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আচারিক উৎসব ‘লাই হরাওবা’ ২য় বারের মত অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও গ্রামে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে।

আগামি ৮-১০ এপ্রিল এই তিন দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়োজক কমিটি।

এবারের উৎসবে দেশের প্রতিথযশা শিল্পী, গবেষক অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারতের মণিপুর থেকে একদল শিল্পী কলাকুশলী, গবেষক অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনব্যাপি লাই হারাওবা’ উৎসব আয়োজনের বিভিন্ন বিষয়ব¯‘ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ এর সদস্য সচিব ওইমান লানথই। এ সময় উপ¯ি’ত ছিলেন স্টিয়ারিং কমিটি আহব্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল), সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ)। বাংলাদেশি মনিপুরিদের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘লাই হারাওবা’কে সংরক্ষণ ও লালন বিকাশে এগিয়ে এসেছে ইউনেস্কো বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে আয়োজিত এই উৎসবটি পরিচালনা করছে লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ। সহযোগিতায় থাকছে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ পৌরৈ অপোক পা মরূপধর্মীয় সাংস্কৃতিক সং¯’া ও সাধন বাংলাদেশ।

মণিপুরি লাই হারাওবার এই উদযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগের অংশ। লাই হারাওবা’ মণিপুরি সম্প্রদায় সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের চেতনায় লালিত বাংলাদেশের বর্ণময় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে আমাদের অবদান প্রদর্শন করে। লাই হারাওবা হলো মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপযপূূর্ণ উৎসব। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। এটি সৃষ্টি, দিব্য সত্তা, বিশ্বতত্ত্ব এবং সম্প্রীতির এক গভীর উদযাপন, যা প্রকাশিত হয় জটিল ও অনন্য ধারাবাহিক আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, মন্ত্র পাঠ (লাইপৌ) এবং মাইবী জাগোই-এর মতো স্বতন্ত্র নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে। আয়োজক কমিটি জানায়, এই উৎসবে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানাই। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে সকলের উপ¯স্থিতিতে হবে প্রাণবন্ত। উৎসবটি চিরাচরিত রীতি ও প্রথা গতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসব মণিপুরি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরিত হয়ে থাকে। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই উৎসব আগামী ১০ এপ্রিল উৎসবটিতে "বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়-ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন" এর আওতায় আয়োজিত হচ্ছে। উৎসবটি সফল করতে এবং মণিপুরিদের এই বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকলের সহযোগিতা ও উপ¯স্থিতি কামনা করেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ