মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্ট::
১২ আগস্ট ২০ ২৪
৭:৫৮ অপরাহ্ণ

সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর

সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা ও মহানগর যুবদল বদ্ধপরিকর। পরিবর্তিত সময়ে কোনো ধরনের ভাংচুর, হামলা, অগ্নিসংযোগে যুবদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নেই। এ ধরনের কর্মকা-ের প্রমাণ পেলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

সোমবার দুপুরে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সিলেট জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন। এ সময় তিনি বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেটের গণমানুষের নেতা এম ইলিয়াস আলী, ছাত্রদলের ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ, আনছার আলীসহ গুমের শিকার সব নেতাকর্মীর সন্ধান দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশক জাতির ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে এ দেশের আপামর জনতার বিজয় অর্জিত হয়েছে। দেশের ছাত্রজনতার জীবন আর রক্তের বিনিময়ে পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার কবল থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পেয়েছে।

এ বিজয় কলঙ্কিত করতে এক শ্রেণির সুযোগসন্ধানী লোক নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।’ যুবদল সভাপতি বলেন, ‘আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা অশান্তি, অরাজকতায় বিশ^াসী নই।

জাতীয়তাবাদী দল জনরায় নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে বলে আমরা বিশ^াস করি।’ সাম্প্রতিক নানা ঘটনার কথা উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট মোমিন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে লুটপাট, ভাংচুর, হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো কোনো জায়গায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা ভাংচুরের খবর শোনা যাচ্ছে।

এসব ঘটনার কোনটা সঠিক, কোনটা গুজব তা আপনারা ভাল জানেন। তবে বিক্ষুব্ধ জনতার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারী মহলের ইন্ধনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটছে। যদিও পূণ্যভূমি সিলেটের কোথাও এ ধরনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো খবর পাওয়া যায়নি।’ সারাদেশে এ ধরনের কোনো ঘটনার সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কিংবা জাতীয়তাবাদী আদর্শের কোনো নেতা কর্মীর সম্পৃক্ততা নয় বলে জানান তিনি।

একইসাথে অতি উৎসাহী হয়ে কেউ বিশৃংখল আচরণ করলে তাৎক্ষণিক দল থেকে বহিষ্কারের হুশিয়ারি দেন যুবদল সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা সিলেট নগর, সিলেট জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রামে গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির পাহারা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া সহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’ যুবদল সভাপতি বলেন, ‘গত দেড় দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে।

অধিকারহারা মানুষ অনেকটা দিশেহারা জীবনযাপন করছেন। গুম, খুন, মামলা, গ্রেপ্তারের তা-বে আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। এখন হাসিনার পালিয়ে যাবার মধ্য দিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির দেশ গড়ার স্বপ্ন আকাঙ্খা আমাদের। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তিনি জানান, গত জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী যুবদল সিলেট জেলার ৭০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অর্ধশত নেতাকর্মী। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। প্রতিটি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে তিনি আহতদের চিকিৎসায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ