রবিবার, মার্চ ২৯, ২০ ২৬
মো.শাহজাহান মিয়া,জগন্নাথপুর::
২৮ মার্চ ২০ ২৬
৭:২৬ অপরাহ্ণ

জগন্নাথপুরে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের গুড়া কেটে মাটি নিয়েছে প্রভাবশালী ॥ বর্তমানে ঝুঁকিতে বাঁধ, ফসলহান

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহত নলুয়ার হাওর সহ ১২টি হাওরে উৎপাদিত আগাম বোরো ফসল রক্ষায় ৩৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে বাঁধের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ঘাস লাগানোসহ আনুসাঙ্গিক কাজও শেষ প্রান্তে। এমতাবস্থায় নলুয়ার হাওরের পশ্চিমপ্রান্ত ডেঞ্জার জোন নামে পরিচিত বেতাউকা গ্রাম এলাকার সুইচ গেইগেইটের পাশে ১২নং পিআইসি প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত স্থানে একটি প্রায় ৫০ ফুট গভীর ডহর বা ডোবা রয়েছে।

এ ডোবা গুড়িয়ে বয়ে গেছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ। এদিকে-বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে এ গভীর ডোবা ভরাটের কাজ পায় ছাতকের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অনেক চেষ্টা করেও এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম বা কতো টাকার কাজ তা পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কাউকে। ফলে তাদের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ প্রকল্পের কাজ নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা এ গভীর ডোবা ভরাট করতে না পারলেও বেড়িবাঁধের গুড়া কর্তন করে মাটি নিয়েছে। ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে বাঁধ।

এ নিয়ে হাওরের ফসলহানির শঙ্কায় শঙ্খিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। এ বিষয়ে গত ১৫ মার্চ ১২নং পিআইসি কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বাদী জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন কাজ হয়নি। সরেজমিনে ১২নং পিআইসি কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও সদস্য সচিব রুবেল মিয়া জানান, বাঁধের গুড়া থেকে মাটি কেটে নেয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে বাঁধ। হাওরে বা নদীতে পানি আসলে বাঁধটি সহজে ভেঙে হাওর তলিয়ে যাবে। তখন এর দায়ভার আমরা নেবো না। কারণ আমরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কি করার আছে। কে বা কারা এমন কাজ করেছে জানতে চাইলে কেউ নাম বলতে চায়নি।

পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারাসহ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি চিলাউড়া সমধল গ্রামের কামাল মিয়া এখানে কাজ করতে গিয়ে বাঁধের গুড়া কেটে মাটি ডোবায় ফেলেছেন। তবে কোথাকার ঠিকাদার বা কে কাজ পেয়েছে আমরা জানি না। এখানে বাঁধ ভেঙে হাওরের ফসলহানি হলে দায়ভার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, প্রকাশ্যে বাঁধের গুড়া কাটলেও বাঁধা প্রদানের সাহস ছিল না কারো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কামাল মিয়া জানান, আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন দায়িত্বে নেই। আমি শুধু তাদেরকে সহযোগিতা করেছি মাত্র। তিনিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম বলেননি। তবে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের আটকানোর অনেক চেষ্টা করলেও কোন লাভ হয়নি। জগন্নাথপুর উপজেলা পাউবো কর্মকর্তা শেখ ফরিদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলেছে, কর্তনকৃত জায়গা ভরাট করে দেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জানি না। এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম নিয়ে কেন এতো লুকোচুরি তা বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে ২৮ মার্চ শনিবার জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.বরকত উল্লাহ জানান, এখানে আমার কোন সম্পৃক্ত নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দেয়া লিখিত অভিযোগটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ