বুধবার, জুলাই ২৯, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্ট::
২৯ জুলাই ২০ ২৬
৫:৪৯ অপরাহ্ণ

বালাগঞ্জে আওয়ামী লীগ থেকে রাতারাতি বিএনপি সেজে জমি-দোকান দখ'লের চেষ্টা

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের কলুমা গ্রামে আওয়ামী লীগ থেকে রাতারাতি বিএনপি সেজে একটি প্রভা'বশা'লী চক্রের বি'রু'দ্ধে ভূমি ও দোকানকোঠা দখ'লের চেষ্টা, অ'স্ত্র নিয়ে হা'মলা, প্রাণ'না'শের হুম'কি এবং মি'থ্যা মা'মলা দিয়ে হয়'রানির অভি'যোগ উঠেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভি'যোগ করেন বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের কলুমা গ্রামের বাসিন্দা মাখন মিয়ার স্ত্রী মোছা. রহিমা বেগম।

লিখিত বক্তব্যে রহিমা বেগম বলেন, কষ্টার্জিত অর্থে পৃথক দুটি দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর তিন ভাই কলুমা মৌজায় একটি দোকানকোঠাসহ মোট ৬ দশমিক ৬৮ শতক ভূমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর নামজারি সম্পন্ন করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ'ভাবে ভোগদ'খল করে আসছেন।

দোকানকোঠাটিও চুক্তিনামার মাধ্যমে ভাড়া দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অভি'যোগ করেন, একই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে কনর মিয়া, তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা চুনু মিয়া, অপর ভাই বিএনপি নামধারী লিটন আহমদ রফু এবং তাদের সহযোগীরা সংঘ'বদ্ধ'ভাবে ওই সম্পত্তি জব'রদ'খলের অপ'চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জমির বৈধ দলি'ল, খতিয়ান, নামজারিসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকার পরও পরিকল্পিতভাবে তাদের হয়'রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। রহিমা বেগমের অভিযোগ, অভিযুক্তরা একাধিকবার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দোকানকোঠা ভাঙচুরের চেষ্টা করেছেন এবং দোকানদারের ওপর হামলা চালিয়েছেন। কনর মিয়ার ছেলে শাকিব ও চুনু মিয়ার ছেলে মেহেদী অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজমুল আলম নজম, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্তরা মামলার অজুহাতে সেখানে উপস্থিত হননি।

সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাদের সম্পত্তির পাশেই অভিযুক্তদের পিতার নামে আব্দুল গফুর একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাইয়ূমকে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করানো হয়েছে যে, তাদের দোকানে বখাটেদের আড্ডা বসে। অথচ প্রকৃতপক্ষে দোকান উচ্ছেদের উদ্দেশ্যেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, গত দুই মাসে এ ঘটনায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ বালাগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় সতর্ক করে এবং প্রকৃত মালিক যেভাবে ভোগদখল করে আসছেন, সেভাবেই পরিস্থিতি বজায় রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন । পাশাপাশি সার্কেল কর্মকর্তাও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চুনু মিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পলাতক সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাতারাতি বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে একইভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। এ কারণে সব সময় তারা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম বলেন, তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান না; বরং প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে বৈধ মালিকানার সম্পত্তি রক্ষায় আবেদন-নিবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ