৬:২৬ অপরাহ্ণ
সিলেটে শেভরন কার্যালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
শেভরনের প্রজেক্ট থেকে এক আদেশে ১৪১ নিরাপত্তাকর্মী ছাঁটাই
সিলেটের লাক্কাতুরায় অবস্থিত জালালাবাদ শেভরন গ্যাস ফিল্ডের জেবি লোকেশনে দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা ১৪১ জন নিরাপত্তাকর্মীকে ১ দিনের নোটিশে হঠাৎ চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান ও বকেয়া বেতন-ভাতা আটকে রাখার প্রতিবাদে ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটে শেভরন বাংলাদেশ কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, জালালাবাদ শেভরন গ্যাস ফিল্ডে বিভিন্ন সময় কন্ট্রাক্টর কোম্পানি পরিবর্তন হলেও নিরাপত্তাকর্মীরা ধারাবহিকভাবে দীর্ঘ তিন দশক ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সম্প্রতি সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে কর্মরত থাকা অবস্থায় মাত্র ১ দিনের নোটিশে কর্মীদের জানানো হয় যে, আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সেন্ট্রি কোম্পানির চুক্তি বাতিল হচ্ছে এবং নতুন কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছে জিফোরএস (এ৪ঝ) সিকিউরিটি কোম্পানি। নতুন দায়িত্ব পেয়েই জিফোরএস কোম্পানি পুরাতন ১৪১ জন অভিজ্ঞ নিরাপত্তাকর্মীকে পুরোপুরি বাতিল করে তাদের নিজস্ব লোক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়।
শুধু তা-ই নয়, নতুন নিয়োগে পূর্বনির্ধারিত বেতনের চেয়ে জনপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব সত্ত্বেও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে কর্মীরা সেই কম বেতনেই কাজ করতে রাজি ছিলেন। কিন্তু তাদের সেই সুযোগও না দিয়ে এক আদেশে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে ১৪১টি পরিবার অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছে। চাকরি বহাল ও বকেয়া পাওনার দাবিতে আন্দোলনরত কর্মীরা এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থানা ও সরকারি সংস্থায় স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মুরব্বিরাও অভিজ্ঞ এই কর্মীদের বহালের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি সিলেট জেলা প্রশাসক নিজে শেভরনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে অভিজ্ঞ কর্মীদের চাকরি থেকে না সরানোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শেভরন বাংলাদেশের সিলেটের কার্যালয়ে অবস্থান নেন ছাঁটাইয়ের শিকার কর্মী ও কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তারা। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানান, কোনো নোটিশ ছাড়া চাকরিচ্যুতির এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। অবস্থান কর্মসূচিতে শেভরন বাংলাদেশের সিকিউরিটি কো-অর্ডিনেটর খুরশেদ আলম চৌধুরী, সিকিউরিটি অফিসার মনিষ কান্তি, নাদির লতিফ, নাজিম এহসান, পরিদর্শক রনজিত নাথ, ফারুক আহমেদ, আলাউদ্দিন, সওমনি শর্মা ও হেলাল উদ্দীনসহ অন্যান্য সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আকুল আবেদন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে মানবিক ও প্রশাসনিক দিক বিবেচনা করে ১৪১ জন নিরাপত্তাকর্মীকে তাদের নিজ নিজ পদে বহাল রাখার অনুরোধ জানান। বিজ্ঞপ্তি