৪:৫৯ অপরাহ্ণ
কালাগুলে জমি দখ'লের চেষ্টা চাঁ'দা'বাজি ও লুট'পা'টের অভি'যোগ
সিলেট শহরতলীর খাদিমনগর ইউনিয়নের কালাগুল মৌজার প্রায় ২০ একর মালিকানাধীন ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ভূমি দখ'লের চেষ্টা, চাঁ'দা দাবি, লুট'পাট, বসতঘরে ভাঙ'চুর এবং দখ'লের অভি'যোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রা'সী বাহিনীর বিরুদ্ধে।
এসব অভি'যোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিলেট নগরের শেখঘাট কলাপাড়ার বাসিন্দা হাজী মো. ছমরু মিয়া। রোববার (২ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে হাজী মো. ছমরু মিয়া বলেন, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের কালাগুল মৌজার বিভিন্ন দাগভুক্ত প্রায় ২০ একর ভূমির বৈধ মালিক হিসেবে তিনি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। জমিতে বাগানবাড়ির আদলে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ, কেয়ারটেকার নিয়োগ, গাছপালা রোপণ এবং প্রায় ২৫ কিয়ার জমিতে ধান চাষ করে আসছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত মার্চ মাসে বিমানবন্দর থানার বড়বন গ্রামের ইব্রাহিম আলীর ছেলে ফারুক মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল তার কেয়ারটেকারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বাড়িঘর, ফিশারির মাছ, ফসল, ফলের গাছ ও জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। একই সময় তার সেচ মেশিনও নিয়ে যায় তারা ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফারুক মিয়ার নেতৃত্বে সাইদ আলী, হেলাল মিয়া, আব্দুস সোবহান, মনজুর আলী, দুইল মিয়া, ছমছু উদ্দিন, সালাম মিয়া, দুলু মিয়া, ফলি মিয়া, আকলিমা বেগম, ফেছিনা বেগম, নাসির মিয়া, বাসির, কালা গাজী ও আসন আলীসহ অন্যরা বিভিন্ন সময়ে তার জমিতে প্রবেশ করে কাঠালসহ বিভিন্ন ফল নিয়ে যায় এবং বসতঘরে ভাঙচুর চালায়। তিনি বলেন, গত ১ মে বিকেলে অভিযুক্তরা তার টিনশেড ঘরে ঢুকে দরজা-জানালা ও টিন খুলে ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে কেয়ারটেকারকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ছমরু মিয়া বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে দুই দফা সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তরা কোনো বৈঠকেই উপস্থিত না হওয়ায় সমাধান হয়নি। পরে চেয়ারম্যান তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, এরপর গত ২১ মে ১৬ জনকে আসামি করে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম ও দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে জব্বার মিয়া, জিল্লুর রহমান, আলেক মিয়া, নাসির মিয়া, বাসির, কালা গাজী, আসন আলীসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় তার দখলকৃত বসতঘরে আকলিমা বেগম ও ফেছিনা বেগমকে রেখে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে হাজী মো. ছমরু মিয়া তার জমি ও বসতবাড়ি উদ্ধার, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।