মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
২ নভেম্বর ২০ ২৬
৬:৪৭ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হাম'.লায় প্রাণ গেল যুবকের

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি বিক্রি সংক্রান্ত বি'রোধের জেরে প্রতিপক্ষের হাম'লায় জাহাঙ্গীর আলম (২৯) নামের এক তরুণ নি.হত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃ'.ত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহ.তের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিম গুরুতর আ'হত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গত রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বড়গাছ গ্রামে এই হাম'লার ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামের উম্মর মিয়ার ছেলে। চাঞ্চল্যকর এই হ'.ত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভি'যোগে ময়নুল হক (২৮) নামের এক যুবককে আট'ক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামপাশা গ্রামের দুলা মাস্টারের লন্ডনপ্রবাসী ছেলে রিপন আহমেদের জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে মধ্যস্থতাকারী জাহাঙ্গীরদের সাথে একই গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদ মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৩০) ও ময়নুল হকের বিরোধ তৈরি হয়। রবিবার বিকালে জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই সাহেল জমি কেনার জন্য দু'জনকে সাথে নিয়ে আসেন এবং কথা বলতে জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে ডেকে আনেন।

জসিম সেখানে পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা জমি বিক্রিতে বাধা দেয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরা জসিমের মাথায় আঘাত করে এবং দেশীয় অস্ত্র (দা) দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাঁকেও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) সরজমিনে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহতের বাবা-মা ও স্বজনেরা। এ সময় নিহতের চাচা সুন্দর আলী অভিযোগ করে জানান, এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হামলায় ব্যবহৃত দা ও লাঠি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

মামুন, মাহমুদ ও ময়নুল এই তিন ভাই এবং তাঁদের ভাগিনা সামি ও ভগ্নিপতি খয়ের মিলে আমার ভাই ও ভাতিজাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নুল হক নামের একজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ