৩:০ ৩ অপরাহ্ণ
জকিগঞ্জে আ'গুনে পুড়ে যাওয়া দিনমজুর পরিবারকে নতুন ঘর দিল স্মাইলিজ চ্যারিটি
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল বসতঘর, আসবাবপত্র, চাল, কাপড়চোপড়সহ সংসারের সবকিছু। নিঃস্ব হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল দিনমজুর ডালু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রুসনা বেগমকে। সেই অসহায় পরিবারের পাশে আবারও দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠন স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের জায়গায় নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও আর্থিক সহায়তা। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের বৃহত্তর আটগ্রাম এলাকার নওয়াগ্রামের পীরকোণা গ্রামে এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মাওলানা মুজিবুল ইসলাম তাপাদার ও স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য নতুন করে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ডালু মিয়া ও রুসনা বেগমের বসতঘরসহ ঘরের আসবাবপত্র, চাল, নগদ পাঁচ হাজার টাকা, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে যায়। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তাঁরা।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০২৬ সালে স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের উদ্যোগেই রুসনা বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল সেই ঘর। অগ্নিকাণ্ডে সেটিও পুড়ে যাওয়ায় আবারও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে পরিবারটি। রবিবার (১ নভেম্বর) স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন ঘর, চৌকি, লেপ-তোষক, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও নগদ অর্থসহায়তা হস্তান্তর করা হয়।
নতুন করে ঘর ও সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর সিরাজুল ইসলাম তাপাদার সেলিম, লুৎফুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. ছালিক আহমদ চৌধুরী, ইন্সট্রাক্টর দিলীপ কুমার মজুমদার, ইন্সট্রাক্টর শরীফ আহমদ চৌধুরী, কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. রশিদ বাহাদুর, গোটারগ্রাম ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বাছিত, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আহমদ হোসাইন আইমান ও সদস্য জাকির হোসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নতুন ঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মাওলানা মুজিবুল ইসলাম তাপাদার, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া একটি পরিবারের জীবনে নতুন করে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার এ উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, বিপদের দিনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্মাইলিজ চ্যারিটি ইউকে শুধু একটি ঘরই নির্মাণ করেনি, পরিবারটির নতুন করে বেঁচে থাকার আশাও ফিরিয়ে দিয়েছে।