৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফিডার পরিবর্তন: বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসী
এনামুল কবীর:: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভেতরেই তাদের অবস্থান। অথচ অজোপাড়াগাঁয়ের মতো হেলাফেলায় বসবাস করছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ তাদের জীবন। দিনে ১৫/২০ বার বিদ্যুতের লুকোচুরি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনের ফিডার পরিবর্তন করায় এমন যন্ত্রনায় পড়তে হয়েছে তাদের। বার বার অভিযোগ দিলেও কোন ফল পাচ্ছেন না তারা। অথচ তাদেরই প্রতিবেশী হাউজিং এস্টেটে খুব একটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট নেই। ঐ এলাকায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসা বলেই অধিবাসীরা রাজকীয় বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন বলেও ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জালালাবাদ, পীরমহল্লা, ফাজিলচিশত এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকরা অজোপাড়া গাঁয়ের বিদ্যুৎ সেবাও পাচ্ছেন না। দৈনিক কতবার যে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা চলে তার হিসাব রাখা দায়। তবুও কোনদিন ১৫ থেকে ২০, আবার কোন দিন ২০ থেকে ২৫ বার চলছে এই খেলা। একেতো ভ্যাপসা গরম, তার উপর বিদ্যুতের অমন নর্দন-কুর্দনে ত্রাহি অবস্থা স্থানীয় জনসাধারণের। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় যেমন মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি নাগরিক জীবনও বলতে গেলে বিপর্যস্ত। বিশেষ করে মহিলা শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা এ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। এ ব্যাপারে বার বার বিদ্যুতের প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করে মৌখিক অভিযোগ দেয়া হলেও আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। সমস্যা যেমন ছিল তেমনই আছে। এমনকি জুলাই মাসের শেষের দিকে লিখিতভাবে একজন নাগরিক অভিযোগ দিলেও কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভাঙছেই না। গত ২২ জুলাই ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জালালাবাদ ২২/ ৩ নম্বর বাসার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর এ সমস্যা নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, আগে তাদের বিদ্যুৎ লাইনটি জালালাবাদ ফিডারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন বিদ্যুতের এত সমস্যা ছিলনা। কিন্তু কিছুদিন আগে ফিডার পরিবর্তন করে লাইনটি আম্বরখানা ফিডারে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই অসহনীয় যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। এখন এই এলাকায় দৈনিক ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে লেখাপড়া বিদ্যুৎ ছাড়া অসম্ভব। তাছাড়া প্রচন্ড গরম আবহাওয়ায় বয়স্ক ও শিশুরা রীতিমতো হাঁফাচ্ছেন। আব্দুল হান্নান দৈনিক একাত্তরের কথাকে বলেন, বার বার যোগাযোগ করার পরেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। পাশের হাউজিং এস্টেটে সারাদিন বিদ্যুৎ থাকলেও আমাদের জীবন অতিষ্ঠ। তিনি অবিলম্বে তাদের লাইনটি আম্বরখানা ফিডার থেকে সরিয়ে পূর্বের জালালাবাদ ফিডারে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর জীবনে স্বচ্ছন্দ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় নাগরিকবৃন্দ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, হাউজিং এস্টেটে থাকেন বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী। তাই ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নেই বললেই চলে। কিন্তু আমাদের দিকে নজর দেয়ার কেউ নেই। বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিলেট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল করীম বলেন, হ্যাঁ, অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে কাজ চলছে। যতদ্রুত সম্ভব ফিডার পরিবর্তন করা হবে। সমস্যা সমাধানে আরো যা যা করা দরকার তা করছি আমরা। হাউজিং এস্টেটে বিদ্যুৎ বিভ্রাট না থাকার কারণ তিনি ঐ এলাকায় থাকেন- জালালাবাদবাসীর কয়েকজনের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এর কোন ভিত্তি নেই। এটা কাকতালীয়। যখন তখন এ এলাকায়ও সমস্যা হতে পারে। তিনি ভুক্তভোগীদের আশ্বস্থ করে বলেন, কাজ করছি। দ্রুত জনগণের এই সমস্যা সমাধান করা হবে।