৭:১৮ অপরাহ্ণ
বালাগঞ্জে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাংচুরের অভিযোগ
পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে বালাগঞ্জে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা শেখ ইকবাল হাসান বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক। মঙ্গলবার (২০ আগষ্ট) বিকেল আনুমানিক ৪ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শেখ ইকবাল হাসানের পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, বালাগঞ্জ উপজেলা জামায়াত নেতা সাবেক ইউ/পি সদস্য জলাল মিয়া তার সহযোগীদের দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। ছাত্রদল নেতা শেখ ইকবাল হাসানের বড় ভাই ব্যবসায়ী শেখ আলী হোসেনের অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব-বিরোধের জের ধরে স্থানীয় মেম্বার জামায়াত নেতা জলাল আহমদের নেতৃত্বে তার ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী এসে মঙ্গলবার বিকেলে আমার বাড়িতে হামলা করে। এ সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না।
বাড়িতে থাকা মহিলারা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন। জলাল মিয়া ও তার লোকজন বাড়ির প্রধান ফটকে ভাঙচুরের চেষ্টা করে। না পেরে পেছন দিকে গিয়ে টিনের ঘর ও রান্নাঘর ভাঙচুর করে। এছাড়া বসতঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা চলে গেলে বাড়ির মহিলারা আগুন নেভায়।ব্যবসায়ী শেখ আলী হোসেন বলেন, আমার ছোট ভাই সাবেক ছাত্রনেতা শেখ ইকবাল হাসান দেশের গনমানুষের কল্যাণে, গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতি করে আসছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের হামলা মামলায় শিকার হয়ে ফেরারি অবস্থায় দেশ ত্যাগ করেছে। সম্প্রতি হাড়িয়ার গাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ক্যাশিয়ার রহিম মিয়া চাঁদা তুলে টাকা তার কাছে রেখেছিল।
আমার ভাই ছাত্রনেতা শেখ ইকবাল হাসানসহ আমাদের পরিবারের কেউই কমিটির সদস্য নই। অথচ ওই বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাতের ঘটনার সাথে আমার ভাইকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছে জলাল মেম্বার ও তার সহযোগীরা। এছাড়াও ১৯শে আগষ্ট (সোমবার) কমিটির দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় আমার ভাই ছাত্রনেতা শেখ ইকবাল হাসানের নির্দেশে হয়েছে বলে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। আমি এসব ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালে তারা আমার বাড়িতে এসে ভাংচুর চালায়। এ ব্যাপারে ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লেচু মিয়া বলেন, মূলত আমাদের নেতা শেখ ইকবাল হাসান ভাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করেন। তিনি কেমন মানুষ সবাই জানে। তাকে হেয় করে নিজে বড় হতে চায় জলাল মেম্বার। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে সে। বারবার ইকবাল ভাইকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছে।
৮নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আয়না মিয়া খান বলেন, আমি ইকবাল হাসানের বাড়িতে এসে ভাঙচুরের ঘটনা জানতে পারি। বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এই হামলা ও ভাঙচুরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেতৃবৃন্দের কাছে দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার জলাল আহমেদ সাথে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার তার মোবাইলে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন।