সোমবার, জুলাই ২০ , ২০ ২৬
সাগর হাসান শুভ্র, শাবিপ্রবি::
১৬ জুন ২০ ২৫
৮:২৭ অপরাহ্ণ

লিডারশীপ কোয়ালিটি তৈরিতে ভুমিকা রাখছে ‘ইউপিজি’

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ভিত্তিক ইউনাইটেড পিপল গ্লোবাল এবং আমেরিকার হারিকেন আইল্যান্ড সেন্টার ফর সাইন্স এন্ড লিডারশীপের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের ১৭টি এসডিজি নিয়ে কাজ করার জন্য সম্ভাবনাময় তরুণদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে ‘ইউপিজি সাস্টেইন্যাবিলিটি লিডারশীপ প্রোগ্রাম-২০২৫’।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের ১২০টি দেশের প্রায় ১৪,০০০ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ১ম রাউন্ড অনুষ্টিত হয়। যেখানে শর্টলিস্টের মাধ্যমে সিলেক্ট হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯ সপ্তাহের ট্রেনিং সেশন আয়োজিত হয়।

ইউপিজি মূলত তরুণ নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে প্রত্যেককে নিজ সম্প্রদায়ের সমস্যা যেমন: দারিদ্র্য, ক্ষুধা, লিঙ্গবৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি সমাধানের জন্য যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এটি টেকসই বিশ্ব নির্মাণে এসডিজি এর ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তিতে এটি আগ্রহী তরুণদের নিয়ে কাজ করছে। নয় সপ্তাহের এই প্রোগ্রাম শেষে ৫০০জন শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদান এবং ৬০জন শিক্ষার্থীকে আমেরিকার হারিকেন আইল্যান্ডে ফুল ফান্ডিংয়ে এক সপ্তাহের জন্য ট্রেইনিংয়ে নেওয়া হবে। গতকাল ড্রিম সিলেটকে সাক্ষাৎকার দেন ‘ইউপিজি সাস্টেইন্যাবিলিটি লিডারশীপ প্রোগ্রাম -২০২৫’ এ শর্টলিস্টে সিলেক্ট হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো: নাজমুল হাসান । সাক্ষাৎকার নেন ড্রিম সিলেটের প্রতিনিধি সাগর হাসান শুভ্র-

ড্রিম সিলেট: আপনি কীভাবে এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন?

নাজমুল হাসান: আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ভাই হাবিবুর রহমান মাসরুর ২০২৩ সালে এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে আমেরিকার হারিকেন আইল্যান্ডে হওয়া ট্রেনিং সেশনে যোগদান করেছিলেন।  এছাড়াও আমার বন্ধু রাজু, জসিম এবং নুপুর খানমের মাধ্যমে এ প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তাদের অনুপ্রেরণা, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় আমি এই প্রোগ্রামে আমার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেছি।

ড্রিম সিলেট: এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি কীভাবে আপনার সম্প্রদায়ে অবদান রাখছেন?

নাজমুল হাসান: আমি আমার সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব, সিনিয়র, জুনিয়র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিনি ট্রেনিং সেশন আয়োজন করে সেখানে তাদের এইসকল বৈশ্বিক সমস্যা সম্পর্কে সতর্কীকরণ, প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি সম্পর্কে অবগত করি। এছাড়া আমি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেখানকার শিশুদের মাঝে গুণগত শিক্ষা অর্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান, শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্রতা দূরীকরণ, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি এবং তা বজায় রাখা, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতায় টেকসই বিশ্ব নির্মাণে কাজ করার জন্য তাদের অবগত করি।

ড্রিম সিলেট: ইউপিজি এর এই ধরনের প্রোগ্রামের তাৎপর্য সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
নাজমুল হাসান : ইউপিজি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে এসডিজি এর ১৭টি লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহী তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সকলের মাঝে একটি সৌহার্দপূর্ণ শক্তিশালী সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে  বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত করে তুলছে। তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, উৎসাহ এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকের নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী বিকাশে ভূমিকা রাখছে। তাই আমি মনে করি উজ্জীবিত তরুণদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টেকসই বিশ্ব গঠনে এই প্রোগ্রামের গুরুত্ব অবর্ণনীয়।

ড্রিম সিলেট: এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের অনুভূতি কেমন এবং অন্যদের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ নিয়ে কী বলতে চান?

নাজমুল হাসান : এটি আমার দক্ষতা, সুপ্ত গুণাবলি প্রকাশ এবং বিকাশের সুযোগ দিয়েছে। আমি আনন্দিত এই ভেবে যে এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমি আমার সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অবদান রাখতে পারছি। এই ধরনের প্রোগ্রামে সকলের অংশগ্রহণ করাটা জরুরি যেন তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর ও সমস্যামুক্ত বিশ্ব উপহার দিতে পারে।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ