বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
২৯ জানুয়ারী ২০ ২৬
৮:২৬ অপরাহ্ণ

অপ'রাধ প্রতিষ্ঠাতা বিএনপি নেতা
কমলগঞ্জে দুই দশক থেকে জাতীয়করণ ব'ঞ্চিত প্রাথমিক বিদ্যালয়!

প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও আজও জাতীয়করণের তালিকায় নাম ওঠেনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শামীম আহমেদ চৌধুরী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জাতীয়করণ প্রক্রিয়া থেকে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হওয়ার একটাই অপরাধ, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজ্বী মুজিব)।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও (বটতল) এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বারবার জাতীয়করণ প্রক্রিয়া থেকে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে এলাকার নিরক্ষরতা দূর করতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজ্বী মুজিব) উদ্যোগ নিয়ে উনার প্রয়াত ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ চৌধুরীর নামে ‘শামীম আহমেদ চৌধুরী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। জমি দান থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি অত্র এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে তিন শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থীর রয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকার যখন সর্বশেষ সারাদেশে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে, তখন এই বিদ্যালয়টির সকল শর্তপূরণ থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নাম আসেনি বলে দাবি করছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজ্বী মুজিব) বলেন, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সাথে যুক্ত থাকায় বিগত সরকারের আমলে অনেকবার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে সব ঠিকঠাক পেলেও অদৃশ্য কারণে ফাইল আর এগোয়নি।

ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আর শিক্ষকদের মানবেতর জীবন দেখে এখন খুব কষ্ট হয়। আমি সাধ্যমতো তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি।’ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোজীনা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা সবকিছু দিৈে ৈকিন্তু ৪ বার বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি হয়েছে। বর্তমানে বেহাল অবস্থা, বাথরুম আছে, পানির ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ফ্যান নেই দরজা জানালা ভাঙ্গা।

একদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা অন্যদিকে চুরি, এভাবে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে বিদ্যালয়টি ২০ বছর ধরে টিকে আছে। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না, আমরা বুঝি শিক্ষা। অথচ রাজনৈতিক তক্মা লাগিয়ে আমাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এখন আমাদের দাবি, নতুন বাংলাদেশে যেন এই বৈষম্যের অবসান ঘটে। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘জাতীয়করণের বিষয়টি নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। নতুন করে জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হলে এবং বিদ্যালয়টি শর্তপূরণ করলে অবশ্যই তা বিবেচনা করা হবে।’ এলাকাবাসী আশা করছেন, সরকার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার মান উন্নয়নে এই বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ