বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০ ২৬
মো.শাহজাহান মিয়া,জগন্নাথপুর::
২ ফেব্রুয়ারী ২০ ২৬
৭:৩৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে শেষ সময়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। এতে চারমুখি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

সময় যতো ঘনিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। শেষ মুহুর্তের প্রচার ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রাথর্ী ও তাদের কমর্ী-সমর্থকরা। চষে বেড়াচ্ছেন শহর থেকে গ্রামে। হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে করছেন ভোট প্রার্থনা।

নিজের বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়ে ঝঁাপিয়ে পড়েছেন মাঠে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পাল্টাচ্ছেন নির্বাচনী কৌশল। বিজয়ের জন্য প্রাথর্ীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। প্রাথর্ীদের পক্ষে দেশে ও বিদেশে থাকা সমর্থকরা কাজ করছেন। জগন্নাথপুর প্রবাসী অধ্যূষিত উপজেলা হওয়ায় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভূমিকা সব সময় থাকে।

এবারের নির্বাচনেও প্রবাসীদের প্রভাব পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভোটারদের অধিকাংশ প্রবাসী স্বজনদের কথায় ভোট প্রদান করেন। তবে এবার আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচনে ভিন্ন প্রভাব পড়েছে। আওয়ামীলীগের ভোট নির্বাচনে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আওয়ামীলীগের নেতাকমর্ীরা ভোট প্রয়োগ করলে নির্বাচনের ফলাফল থাকবে এক ধরণের। আর নির্বাচনে অংশ না নিলে অন্য রকম প্রভাব পড়বে। নির্বাচনী আলোচনায় ঘুরেফিরে আওয়ামীলীগের নাম উঠে আসছে। নির্বাচনী হিসাব নিকাশ কষতে গিয়ে আওয়ামীলীগের কথা বলছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এছাড়া আওয়ামীলীগ বিহীন ভোটের হালচালের চিত্র ফুটে উঠবে নির্বাচনের পরে। এমতাবস্থায় কেউ কিছু নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না। কারণ এ অঞ্চলে সব সময় আওয়ামীলীগের ঘঁাটি ছিল। ফলে সুনামগঞ্জ-৩ আসন একটি মর্যাদার আসন। এ আসনে আওয়ামীলীগের এমপি ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদসহ অনেকে। সর্বশেষ আওয়ামীলীগের পকিল্পনামন্ত্রী ছিলেন এমএ মান্নান। তঁাদের কারণে এ আসনটি অধিক মর্যাদার পরিচিতি পায়। এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রাথর্ী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তঁারা হলেন, ইসলামী ঐক্যজোট তথা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রাথর্ী এ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি মনোনীত প্রাথর্ী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রাথর্ী ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন (তালা), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রাথর্ী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রাথর্ী শেখ মুস্তাক আহমদ (দেয়াল ঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রাথর্ী মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার (টেবিল ঘড়ি) ও স্বতন্ত্র প্রাথর্ী হোসাইন আহমদ (ফুটবল)। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, সৈয়দ তালহা আলম ও শেখ মুস্তাক আহমদ জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন, মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ও হোসাইন আহমদ শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। নির্বাচনী ভোট কাস্টিং হিসাব নিকাশে সব সময়ই আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে। এবারো অন্যতা হবে না। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের আমল থেকে দীর্ঘকাল জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা এ আসনে এমপি ছিলেন। তবে এমএ মান্নানের আমল থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এমপি ছিলেন। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসলেই এ অঞ্চলে আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে। ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ভোটারদের সাথে পৃথক পৃথক ভাবে নির্বাচনী আলোচনা হয়।

এসব আলোচনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন দলের নেতাকমর্ী ও সাধারণ ভোটাররা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। তাদের মতামত অনুযায়ী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী জমিয়তে থাকতে হেভিওয়েট প্রাথর্ী ছিলেন। তিনি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদ ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। তবে বিগত নির্বাচনে দল বদল করে সোনালী আঁশ প্রতীকে নির্বাচন করায় তঁার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রাথর্ী হওয়ায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি। কয়ছর এম আহমদ তিনি জগন্নাথপুর পৌর শহরের ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজনীতি করেছেন যুক্তরাজ্যে। তিনি তঁার ক্ষমতার দাপটে নিজ পছন্দের নেতাকমর্ীদের নিয়ে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সঁাজিয়েছেন। ফলে বঞ্চিত নেতাকমর্ীরা তঁার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবুও নির্বাচনী আলোচনায় তিনি প্রথম সারিতে রয়েছেন। ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন একজন বিশেষ ব্যক্তির ছত্রছায়ায় নির্বাচনে প্রাথর্ী হয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া কয়ছর এম আহমদ বিরোধী বিএনপির নেতাকমর্ীরা তঁাকে সমর্থন করেছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত কয়েকজন প্রাথর্ীও তাদের কমর্ী-সমর্থক নিয়ে তঁার পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। সৈয়দ তালহা আলম বিগত জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রাথর্ী হয়ে সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন। আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন নির্বাচনী ফলাফলে। ফলে তঁার ইমেজ বৃদ্ধি পায়। তবে দল বদল করায় কিছুটা হলেও তার জনপ্রিয়তা কমেছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি ইমেজে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় তিনি থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ও সৈয়দ তালহা আলমের মধ্যে চারমুখি লড়াই জমে উঠেছে বলে আবদুল আলী, কামরুল ইসলাম, নবীন দাস, সুফিয়ান মিয়াসহ বিভিন্ন দলের নেতাকমর্ী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনেকে এভাবেই তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাই এ মর্যাদার আসনে কে হচ্ছেন আগামী দিনের এমপি। অধিক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলাবাসী। যঁার হাত ধরে হবে কাঙ্খিত উন্নয়ন। নির্বাচনী এলাকায় বিরাজ করবে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিরতা। গণমানুষের এমন প্রত্যাশা পূরণে কার গলায় পড়বে বিজয়ের মালা। এমন মনোবাসনা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন কৌতুহলী মানুষজন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ