৬:৪১ অপরাহ্ণ
পিআইসির সভাপতিকে গ্রেপ্তার ও শাস্তি প্রদানের প্রতিবাদে সংবা্দ সম্মেলন
ফারুক আহমেদ, ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদরের হাসপাতাল রোডস্থ ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আজ শনিবার(১৪মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার কাইলানী হাওরের টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধের ৫৭নম্বর প্রকল্পটির নকশা পরিবর্তন করা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি পরিমল মজুমদারকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার ও শাস্তি প্রদানের প্রতিবাদে পরিমল মজুমদারের পরিবারের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প বা্স্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি পরিমল মজুমদারের বড় ভাই প্রাণেশ মজুমদার । এ সময় সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাণেশ মজুমদারের বড় ভাই প্রহলাদ চন্দ্র মজুমদার, তাঁর ভাতিজা ঝলক বিহারী মজুমদার, ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জুবায়ের পাশা হিমু, সহ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন রানা, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ,সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণেশ মজুমদার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কতিপয় কুচক্রী দ্বারা আমাদের পৈতিক সম্পত্তি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে এবং আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য হয়রানী করে চলছে।
তিনি দাবি করেন, এই উপজেলার কাইলানী হাওরের ৫৭নম্বর প্রকল্পটি আমাদের বাড়ির পেছনে অবস্থিত। প্রথমে এই প্রকল্প কাজটি যাদেরকে দেওয়া হয়েছিল এই হাওরের আওতায় তাঁদের কোনো জমি জমা না থাকায় আমার ছোট ভাই পরিমল মজুমদারকে সভাপতি করে ও সম্রাট চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ঠি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। প্রকল্পের কোনোরকম কাগজপত্র আমার ভাইসহ কমিটিতে থাকা অন্যান্য সদস্যদের কাছে না দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব)আবু তালেব ও সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশনায় কাইলানী হাওরের টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধের এই প্রকল্প কাজটি গত ২৭ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করা হয়। গত তিনবছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বাঁধের প্রকল্প কাজটি করার জন্য একটি নকশা করেছিল। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজটির অর্ধেকের বেশি কাজ করার পর আকষ্মিকভাবে ইউএনও এবং পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী দুজনে মিলে মিশে কাউকে খুশি করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নকশা পরির্তন করে নতুন নকশা অনুযায়ী কাজ করার জন্য আমার ভাইয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন । বর্তমানে যে নকশায় প্রকল্প কাজটি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে সেটি করা হলে আমাদের পরিবারের ১২একর জমির ক্ষতি হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা গত ৮মার্চ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি। আবেদন করার পর থেকেই ইউএনও আবু তালেব এবং পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম আমার ছোট ভাইয়ের ওপর প্রচণ্ড রকম ক্ষিপ্ত হন। এ অবস্থায় গত শুক্রবার (১৩মার্চ)দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে আমার ছোট ভাই পরিমল মজুমদারকে প্রকল্প এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে পাঁচদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরিমল মজুমদার এখন সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমি ও ইউএনও স্যার কাউকে খুশি করার জন্য নকশা পরিবর্তনের নির্দেশনা দিইনি। আমাদেরকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যেখানে প্রকল্পের কাজটি হচ্ছে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অ্যালাইনমেন্টের বাইরের কাজ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির(পিআইসি) সদস্যদের কে কাজ করতে বলা হয়েছিল। উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির নির্দেশনা না মেনে গত কয়েকদিন ধরে পিআইসির সভাপতি পরিমল মজুমদার তাঁর নিজ ইচ্ছেমতো বাঁধের কাজ করে আসছিলেন।
ধর্মপাশার ইউএনওর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার(ভূমি)আবু তালেব বলেন,আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। এখানকার কৃষকদের হাওরের বোরো ফসলরক্ষায় টেকসই বাঁধের জন্য উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই বাঁধের অ্যালাইনমেন্ট কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই বাঁধের প্রকল্প কাজটি যে দিক দিয়ে যাচ্ছে তাতে বেশির ভাগ সরকারি জায়গার ওপর দিয়েই যাচ্ছে। যৎ সামান্য জায়গা রয়েছে সেটি পরিমল বাবুসহ এলাকার কৃষকদের। এতে পরিমল মজুমদার ও তাঁর পরিবারের লোকজন ছাড়া আর কারও কোনোরকম আপত্তি নেই। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় কারণেই পরিমল বাবুর লোকজন এ ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা না মেনে ইচ্ছেমতো প্রকল্প বাস্বতবায়ন কাজ করায় বিধি মোতাবেক পরিমল মজুমদারকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।