মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
২০ মার্চ ২০ ২০
৪:২০ অপরাহ্ণ

ছাতকে মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ স্মরণে লোক উৎসব উদযাপন

হাসান আহমদ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে::মরিলে কান্দিসনা আমার দায়রে যাদুধন-মরিলে কান্দিসনা আমার দায়, সূরা ইয়াছিন পাঠ করিও বসিয়া কাছায়, আমার প্রাণ যাবার বেলায়, বিদায় কালে পড়িনা যেন শয়তানের ধূকায় রে যাদুধন-মরিলে কান্দিসনা আমার দায়। সিলেট পরতম আযান ধ্বনি শাহজালাল বাবায় দিয়াছেন, শুন সে আযান ধ্বনি আইজো হইতাছে, যেই ধ্বনিতে পাথর গইলা পানি হইয়াছে-সিলেট পরতম আযান ধ্বনি বাবায় দিয়াছেন।  জনপ্রিয় অসংখ্য গানের রচয়িতা মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ। তার মৃত্যুর প্রায় পনের বছর পর মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ স্মরণে লোক উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ লোক উৎসব উদযাপন পর্ষদ এর উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় তার জন্ম স্থান সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জস্থ বালু মাঠে অনুষ্ঠিত লোক উৎসবে দেশের বিশিষ্ট লোকসংস্কৃতি গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, বাউল শিল্পি, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলেন। উৎসবে গুণীজন সম্মাননা, মরিলে কান্দিসনা আমার দায় বইয়ের মোড়ক উনমোঞ্চচন, কবির বর্নাঢ্য জীবনী নিয়ে আলোচনা ও তার লেখা গান পরিবেশন করেন দেশের প্রখ্যাত শিল্পিবৃন্দ। 

লোক উৎসব উদযাপন পর্ষদের আহবায়ক, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের সভাপতিত্বে উৎসব উদ্বোধন করেন, একুশে পদক প্রাপ্ত লোক সংগীত শিল্পি, সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান সুষমা দাশ। মরমী কবির জীবনী ও তার লেখা গান নিয়ে আলোচনা করেন, একুশে পদক প্রাপ্ত লোক সংগীত শিল্পি সুষমা দাশ, বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক লোকসংস্কৃতি গবেষক ও নাট্যকার ড. সাইমন জাকারিয়া, নাগরীলিপি গবেষক মোস্তফা সেলিম, ছাতক উপজেলা সাবেক নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত সচিব লুৎফুর রহমান, প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদের সহধর্মীনি নাট্য অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন, লোকসংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমন কুমার দাশ, শিল্পি হিমাংশু বিশ্বাস, জামাল উদ্দিন হাসান বান্না, ভারতের কবি কাজল চক্রবর্তী, ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, পৌর সভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াজিদ মজনু, কবিপুত্র আনোয়ার হোসেন রনি। বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক সৈয়দ সাইমুম আনজুম ইভানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব ও গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক স্মৃতি অনার্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহিউদ্দিন। এর আগে উদযাপন পর্ষদ এর পক্ষ থেকে গুনীজনদের উত্তরীয় ও সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। আলোচনা শেষে সিলেট অঞ্চলের উপস্থিত শিল্পিদের সম্মিলিত কণ্ঠে মরমী কবির লেখা ‘সিলেট পরতম আযান ধ্বনি শাহজালাল বাবায় দিয়াছেন, শুন সে আযান ধ্বনি আইজো হইতাছে, যেই ধ্বনিতে পাথর গইলা পানি হইয়াছে, সিলেট পরতম আযান ধ্ববনি বাবায় দিয়াছেন’ এই গানের মধ্যদিয়ে কবির লেখা গান পরিবেশন করেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পিবৃন্দ। মরন সংগীত হিসেবে খ্যাত ‘মরিলে কান্দিসনা আমার দায়রে যাদুধন মরিলে কান্দিসনা আমার দায়, সূরা ইয়াছিন পাঠ করিও বসিয়া কাছায় আমার প্রাণ যাবার বেলায়, বিদায় কালে পড়িনা যেন শয়তানের ধূকায় রে যাদুধন মরিলে কান্দিসনা আমার দায়’ এ জনপ্রিয় গানটি পরিবেশন করেন, প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদের সহধর্মীনি নাট্য অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। শেষ বিয়ার সানাই বাজিল ডাকছে কাল সমনে আমার বাসর হবে গো, সাড়ে তিনহাত মাটির ঘরে প্রাণ বন্ধুর সনে। মরমী কবির এ গানটি পরিবেশন করেন সেলিম চৌধুরী। এছাড়া মরমী কবির লেখা অন্যান্য গান পরিবেশন করেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত লোক সংগীত শিল্পি সুষমা দাশ, সেলিম চৌধূরী, আশিক, হিমাংশু বিশ্বাস, জামাল উদ্দিন হাসান বান্না, কৃঞ্চকলি, বাউল আবদুর রহমান, বাউল পাগল কালা মিয়া, বাউল বিরহী কালা মিয়া, বাউল সিরাজ উদ্দিন, বাউল সূর্যলাল, লাভলী দেব, পĽজ দেব, তনিś দে, সুপ্রিয়া দে, প্রদীপ কুমার মল্লিক, অন্তরা বিশ্বাস পিংকি, লিংকন দাশ, জাহাঙ্গীর আলমসহ শিল্পিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাতিঘর কর্তৃক প্রকাশিত লোক সংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমন কুমার দাশ সংকলিত মরমী কবির নির্বাচিত গান নিয়ে ‘মরিলে কান্দিসনা আমার দায়’ বইয়ের মোড়ক উনমোঞ্চন করেন, সুষমা দাশ ও লুৎফুর রহমানসহ অতিথিবৃন্দ। এসময় ছাতক-দোয়ারাবাজার জোনের সার্কেল বিল্লাল আহমদ, ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুন্দর আলী ও নিজাম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন লালা, মুজিবুর রহমান, সদরুল আমীন সুহানসহ কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, উদযাপন পর্ষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ ১২ আগষ্ট ১৯৩৫ সালে ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন ফতেহ উল্যাহ ও মাতা অমুরতা বিবি। তিনি ১৯৭৪ সালে গীতিকার হিসেবে বাংলাদেশ বেতারে স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৯৮৯সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ঝলক ইন্টারন্যাশনাল আর্টিস এসোয়েশনের নিমন্ত্রনে সফর করেন। ২০০৫ সালের ১২ এপ্রিল এ গুনী কবি মারা যান। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের এক অনন্য আলোকিত মানুষ। তার রয়েছে প্রায় সাত শত গান। এসব গানগুলো দেশ-বিদেশে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।            
 

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ