বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
১৯ আগস্ট ২০ ২০
১:৩২ অপরাহ্ণ

 পুলিশী পাহারায় কোমপানীর এজিএম ও ব্যবস্থাপকের চা বাগান ত্যাগ
কমলগঞ্জের ধলই চা বাগানের দুই নারী শ্রমিক লাঞ্চিত

 আসহাবুজ্জামান শাওন,কমলগঞ্জ:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই চা বাগানে মহিলা শ্রমিকদের লাঞ্চিতের ঘটনায় শ্রমিকরা দিনব্যাপী বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। পরে পুলিশ প্রহারায় কোম্পানীর এজিএম ও ব্যবস্থাপক বাগান ত্যাগ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার(১৯ আগষ্ট) ধলই চা বাগানে।
জানা যায় ,টানা ২১ দিন চা বাগান বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে ৪টায় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে বৈঠকের সিদ্ধান্তে ১৯ আগষ্ট বুধবার থেকে ধলই চা বাগান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বৈঠকের পর এদিন রাতেই ধলই চা বাগান কোম্পানী বিতর্কিত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম ধলই চা বাগানে অনুপ্রবেশ করেন।  এ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝে বুধবার সকালে ধলই চা বাগান কোম্পানীর এজিএমের হাতে দুইজন নারী চা শ্রমিক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠে। এতে ধলই চা বাগানে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে কোম্পানীর এজিএম ও ব্যবস্থাপক ধলই চা বাগাপনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশনায় ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে আলোচনাক্রমে পুলিীশ পাহারায় অবরুদ্ধ এজিএম ও ধলই চা বাগান ব্যবস্থাপক  সাড়ে ৩টায় চা বাগান ত্যাগ করেন। বুধবার সকাল ১১টায় ধলই চা বাগানে গেলে দেখায় চা বাগানে প্রবেশ ফটক বন্ধ রেখে নারী চা শ্রমকিরা বিক্ষোভ প্রদর্শণ করছেন। অন্যদিকে ধলই চা বাগান কারখানায় ফটক বন্ধ করে ভিতরে অবরস্থান নিয়েছেন ধলই চা বাগান কোম্পানীর এজিএম খালেদ খান। আর চা বাগান বাংলোয় পুলিশি পাহারায় অবস্থান নিয়েছেন বিতর্কিত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম।
বিক্ষোব্ধ নারী চা শ্রমিক রোজিনা বেগম (৫৫), ফাতেমা বেগম (৫০), সবিদা মাদ্রাজী (৪৫) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, টানা ২২ দিন চা বাগান বন্ধ থাকার পর গত  সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ বিপিএম-এর উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রথমে চা বাগান কোম্পানী নোটিশ প্রত্যাহার করে বুধবার থেকে ধলই চা বাগান খুলে দিবেন। আর অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আপাতত কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন। পরবর্তী বৈঠকে চা শ্রমকিদের ২২ দিনের মজুরি, রেশন ও ব্যবস্থাপক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। চা শ্রমিক ও চা বাগান কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নেন। তার পর বৈঠকের কয়েক ঘন্টা পর গোপনে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক ধলই চা বাগানে প্রবেশ করে বাংলোয় অবস্থান নেন।
এর প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে ধলই চা বাগানের নারী শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধলই চা বাগান কোম্পানীর এজিএম খালেদ খান এসে নারী চা শ্রমিকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। নারী শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে এক সময়ে এজিএম খালেদ খান নারী চা শ্রমিক রোজিনা বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৫০)-কে টেনে তার জিপে তুলার চেষ্টা করলে তাদের পরণের শাড়ি ও ব্লাউজ ছিড়ে যায় বলে নারী শ্রমিকরা জানান। প্রতিবাদে কিছু শ্রমিক ইটপাটকেল ছোড়লে এজিএম খালেদ খানের জিপের গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ধলই চা বাগানে আরও উত্তেজনা বিরাজ করে। এক পর্যায়ে কমলগঞ্জ থানা থেকে পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন দাশের নেতৃত্বে পুলিশের দল ধলই চা বাগানে এসে ব্যবস্থাপকের নিরাপত্তা জোরদার করে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানের নির্দেশনায় ১১টার দিকে মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু ধলই চা বাগানে এসে বিক্ষোব্দ নারী ও পুরুষ চা শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করে তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে কারখানা ও বাংলো এলাকা থেকে চা শ্রমিকদের সরানোর পর সাড়ে ৩ টায় পুলিশি পাহারায় এজিএম খালেদ খান ও ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে ধলই চা বাগান ত্যাগ করেন।   
মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, ১৭ আগস্টেও সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম ধলই চা বাগানে প্রবেশ করায় চা শ্রমকিরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিল। তবে বুধবার সকালে কোমপানীর এজিএম এসে নারী চা শ্রমিকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করায় ও দুইজন নারী শ্রমিককে লাঞ্চিত করায় ধলই চা বাগানের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশনায় আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের বুঝিয়ে এজিএম খালেদ খান ও ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে নিরাপদে চা বাগান ত্যাগের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। 
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ বলেন, চা শ্রমকিদের বোঝানোর পর তারা পরিবেশ তৈরী করায় নিরাপদে এজিএম ও ব্যবস্থাপককে ধলই চা বাগান থেকে বের করতে পেরেছেন। চা বাগান কোম্পানীর পক্ষে জিপ গাড়ি ভাঙ্গচুরের মৌখিক অভিযোগ ও নারী চা শ্রমিক লাঞ্চিত হওয়ারও মৌখিক অভিযোগ থাকলেও বিকাল পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি।
 

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ