৭:৩৭ অপরাহ্ণ
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের ক্ষো'ভ
উদ্বোধন-প্রচার ছাড়াই চলছে সিলেটের বৃক্ষমেলা ১৫ আগস্ট উদ্বোধনের ঘোষণা
উদ্বোধন ও তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে ‘সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬’। মেলা শুরুর পরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়া এবং প্রচার-প্রচারণার ঘাটতিতে কাঙ্ক্ষিত দর্শনার্থী না আসায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন মেলায় অংশগ্রহণকারী নার্সারি ব্যবসায়ীরা।
এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। সিলেট নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার পক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার সহসভাপতি মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, মেলা শুরুর পরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়া এবং পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবে কাঙ্ক্ষিত দর্শনার্থী আসছেন না। এতে দূর-দূরান্ত থেকে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে স্টল নেওয়া নার্সারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
তবে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা বন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ আগস্ট শনিবার বিকেল ৪টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মেলায় নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়বে। এতে মেলার বাকি সময় ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ১ আগস্ট থেকে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ৫২টি স্টল নিয়ে পক্ষকালব্যাপী ‘সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬’ শুরু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় র্যালি, আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হতো।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মেলা ও বৃক্ষরোপণ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হতো। কিন্তু এবার মেলা শুরু হলেও তেমন কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি দেখা যায়নি। এমনকি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্যান্ডেল তৈরি করা হলেও সেটি এখন পর্যন্ত ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস পর মেলা শুরু হয়েছে।
এরপরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মেলা সম্পর্কে তেমন আগ্রহ তৈরি হয়নি। এতে স্টল নেওয়া ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দূর-দূরান্ত থেকে নার্সারি ব্যবসায়ীরা কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে মেলায় অংশ নিয়েছেন। স্টলের আকারভেদে পরিবহন, কর্মচারীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে একটি স্টলের পেছনে প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম থাকায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
মো. মহিউদ্দিন বলেন, মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে গত ৯ আগস্ট বন বিভাগে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়নি। এ অবস্থায় অংশগ্রহণকারী নার্সারি ব্যবসায়ীরা সর্বসম্মতিক্রমে মেলা থেকে নিজ নিজ স্টল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ব্যবসায়ীরা বলেন, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি মেলার শেষ সময় পর্যন্ত ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হলে মেলায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে। এতে একদিকে নার্সারি ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মলয় লাল ধর, সহসভাপতি মো. আব্দুর রব, প্রচার সম্পাদক মো. আমির আলী, সদস্য মো. গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।