৩:৩৪ অপরাহ্ণ
পহেলা জুলাই থেকে শাবিপ্রবির ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা: সেশন জটের আশংকা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত পেনশনসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষকরা আগামী পহেলা জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাবেন।
এসময় ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। রবিবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক ড. মোঃ আলমগীর কবীরের সঞ্চালনায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে শাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি।
এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সর্বাত্মক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
৩ দফা দাবি নিয়ে গত ৯ মে মানববন্ধন, ১১ মে কালো ব্যাজ ধারণ, ২৫-২৭ জুন ৩ দিন অর্ধদিবস কর্মবিরতিসহ নানা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করে আসলেও শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার ব্যাপারে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন শাবিপ্রবি শিক্ষকরা।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদেরকে কোন আশ্বাস দেয়া হয় নাই। তাই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে আগামী সোমবার থেকে আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাব।
১ তারিখ থেকে সকল বিভাগের ক্লাস,পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।' কতদিন বন্ধ থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এটা সঠিক বলা যাচ্ছে না, তবে সরকার আমাদের দাবি যতদিন না মানবে, ততদিন সব বন্ধ থাকবে আর সরকার দাবি মেনে নিলে আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাব।'
এদিকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে কয়েকটা বিভাগে পরীক্ষা চলমান এবং আগামী মাসের শুরুতে বেশ কয়েকটা বিভাগে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করায় সেশন জটের আশংকা করছেন শিক্ষার্থীরা।
অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান বিন রায়হান বলেন, করোনা মহামারির কারণে আমরা ১বছরের সেশন জটে রয়েছি। ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সালেও স্নাতক সম্পন্ন হবে কি-না সংশয় দেখা দিয়েছে। আমরা আশা করবো সরকার দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে দ্রুত ক্লাসে ফিরে আসবেন শিক্ষকরা।