৯:২৫ অপরাহ্ণ
দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত
দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কোনোদিন সংক্রমিতের সংখ্যা বেশি, আবার কোনোদিন বেশি থাকে মৃতের সংখ্যা। কিন্তু রোববার শনাক্ত এবং মৃত্যু-দুটির সংখ্যাই ছিল গত দু’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন নতুন করে ৮৮৭ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। মারা গেছেন ১৪ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২২৮ এবং এ পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৫৭। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৩৬ জন। মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২ হাজার ৬৫০ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে বর্তমানে দেশে করোনায় সুস্থতার হার ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ এবং মৃত্যুহার এক দশমিক পাঁচ শতাংশ।
রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাসবিষয়ক নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে রোববার। এর আগে শনিবারের ব্রিফিংয়ে ২৪ ঘণ্টায় আটজনের মৃত্যু এবং ৬৩৬ জন নতুন রোগী চিহ্নিতের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেই হিসাবে পরের দিন রোববার মৃত্যু এবং শনাক্ত দুটিই বেড়েছে।
ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, নতুন আরও একটি ল্যাবরেটরিতে করানাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৩৬টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ৬৪২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। আগের কিছু মিলিয়ে এদিন মোট পরীক্ষা করা হয় পাঁচ হাজার ৭৩৮টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হল এক লাখ ২২ হাজার ৬৫৭টি। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, যে ১৪ জন মারা গেছেন তাদের ১০ জন পুরুষ ও চারজন নারী। চার নারীর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন এবং ষাটোর্ধ্ব দু’জন। পুরুষের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দু’জন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন এবং ৯০-১০০ বছর বয়সী একজন আছেন। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে করোনায় সুস্থতার হার ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ এবং মৃত্যুহার এক দশমিক পাঁচ শতাংশ।
ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৯ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে, আর আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭১ জন। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে আছেন দুই হাজার ১১৫ জন। আর এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মোট ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ১১৪ জন। সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে আট হাজার ৬৩৪টি, যা গতকালের চেয়ে ৪০টি বেশি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে দুই হাজার ৯০০টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৭৩৪টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যা ৩২৯টি, ডায়ালিসিস ইউনিট ১০২টি। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০টি ও ময়মনসিংহ নার্সিং ডরমিটোরিতে ২০০ আইসোলেশন শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে।
অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট দুই হাজার ২১৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত দুই লাখ ১০ হাজার ৬২৩ জনকে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৯৭৯ জন। এ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৭৪ হাজার ২০১ জন ছাড় পেয়েছেন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৬ হাজার এবং ৪২২ জন।