৪:৪৬ অপরাহ্ণ
এনসিপি নেতার মদদে ব্যবসায়ীকে হয়'রানি অভি'যোগ সাবেক কাউন্সিলর শানুর বি'রুদ্ধে!
সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার শাহানা বেগম শানু এবং তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নেতাদের মদদে তাকে ও তার পরিবারকে হয়'রানি, মিথ্যা মা'মলায় ফাঁ'সানো ও নানা ধরনের নির্যা'তনের অভি'যোগ করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন।
শনিবার ৭ মার্চ সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, শাহানা বেগম শানু ও তার ছেলেরা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল করে রেখেছে এবং ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করছে। এই দীর্ঘদিনের বিরোধকে পুঁজি করে তারা এনসিপির ছত্রছায়ায় আমাকে ও আমার পরিবারকে ধ্বংসের মিশনে নেমেছে। লোকমান হোসেন অভিযোগ করেন, সিলেট মহানগর এনসিপি আহ্বায়ক আব্দুর রহমান আফজলের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও বারবার জেল খাটানো হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাজিরবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কোতোয়ালী থানার ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামি—শানুর ছেলে রায়হান ও রিপন—পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে তুলে দেয়। চলমান দুটি মামলার (সিআর নং–৬৪৮ ও ১০৯৫ থাকা সত্ত্বেও তারা গ্রেফতার হয়নি, উল্টো তাকে অজ্ঞাত মামলায় চালান দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১০ জানুয়ারি এয়ারপোর্ট থানাধীন রঙ্গীটিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে, অথচ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
সাবেক বিতর্কিত কোতোয়ালী থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মুব্বাশ্বির ও এসআই বিধান দেব তাকে কারাগারে থাকা অবস্থায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখান। লোকমান হোসেন বলেন, শাহানা বেগম শানু নিজেকে এনসিপির নেত্রী দাবি করলেও মূলত তিনি পলাতক সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। তার ছেলে রেদওয়ান ইসলাম ও দেবর নুরুল ইসলাম মূলত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তারা এনসিপিতে যোগ দিয়ে প্রশাসন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, চক্রটি গত ১০ জানুয়ারি তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে।
মামলা দায়েরের পর আসামিরা জামিনে বের হয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে সামাজিক মাধ্যমে কুৎসা রটনা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। স্ত্রীর মোবাইলে পিস্তলের ছবি পাঠানো হয়েছে, যার ফলে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। লোকমান হোসেন বলেন, শানু ও তার পরিবার জালিয়াতি করে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদবিতে ছদ্মবেশ গ্রহণ করেছে। রেদওয়ান ইসলাম জাল হাই স্কুল সার্টিফিকেট দেখিয়ে সিসিকের ওয়ার্ড সচিবের পদে নিয়োজিত এবং নিয়মিত বেতন তুলছে। তার ছেলে ভুয়া ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী’ সেজে আদালতে জামিন নিয়েছে, অথচ নিয়মিত মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চক্রটির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।