বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্ট::
৭ মার্চ ২০ ২৬
৪:৪১ অপরাহ্ণ

দিরাইয়ে পাকা সড়কে মাটি ভরাটে জনদু'র্ভোগ, প্রতিবাদ করায় হা'মলা

পাকা সরকারি রাস্তার ওপর মাটি ভরাট, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এর প্রতিবাদ করায় হা'মলার ঘটনায় জড়িতদের বি'রুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের লৌলারচর গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে মোক্তার হোসেন বলেন, দিরাই-শ্যামারচর বাজার মেইন রোড থেকে তার বাড়ির পাশ দিয়ে সুরমা নদীর পাড় পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। অতীতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সিসি ও আরসিসি ঢালাই করা এই সড়ক দিয়ে আশপাশের প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। নদীপথে পণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় হাট-বাজারে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, সড়কের পাশে নিজের বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

দোকান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিক্রি হতো, যা দিয়ে তার চার সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চলত। কিন্তু সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদনে পাকা সড়কের ওপর মাটি ভরাট করা হলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় কাদা ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি তার দোকানের ব্যবসাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, বৃষ্টির পানিতে দোকানের আলু, পিয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য ও কোম্পানির বিস্কুট নষ্ট হয়ে তার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি দিনমজুরির কাজ করে কোনোরকমে পরিবার চালাচ্ছেন। মোক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, আব্দুল মতিন তালুকদারের পুত্র স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা খোকন কিবরিয়া এবং তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

তার দাবি, উদগল বেরিবাঁধ এলাকার একটি পিআইসি প্রকল্পের বরাদ্দের বড় অংশই আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং অতীতেও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত বছরের ৩০ জুন একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল রাস্তা কাটার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং মুখে আঘাত করে একটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তিনি দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

মোক্তার হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং দিরাই থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। তবে এখনো হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণসহ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। মুক্তার জানান, এ ঘটনায় বিভিন্ন গ্রামের পাঁচ শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে চরনারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দিরাই থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। সালিসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ৫০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়। কিন্তু খোকন, মুসলিম, রুহুল আমিনসহ এই চক্রটি এই সালিস বৈঠকের রায় মানেনি।

পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য খোকন কিবরিয়া তার অপকর্মের দায় স্বীকার করে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি আমার সাথে আপোষে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তদের একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং তাদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ