৬:২৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ১, মামলা দায়ের
সিলেট নগরীর বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্টে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মাসুম আহমদ (৪২) নিহত হয়েছেন। এসময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুম আহমদ নগরীর জল্লারপাড় এলাকার আরাফাত আলীর ছেলে। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
একইস্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কর্মসূচির কারনেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে নগরীর কোর্টপয়েন্টে সমাবেশের ডাক দেয় সিলেট মহানগর বিএনপি। অন্যদিকে, বিএনপি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একই স্থানে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন সকাল থেকেই সিলেট মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্ট এলাকার মধুবন মার্কেটের সামনে জড়ো হতে থাকে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কুদরত উল্লাহ মার্কেটের সামনে একত্রিত হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টায় উভয় পক্ষ একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলমান সংঘর্ষে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়।
সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশ্যাল নিক্ষেপ করে। এদিকে সংঘর্ষে আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় নেতাকর্মীরা। বিকেল ৪টার দিকে গুরুতর আহত বিএনপি নেতা মাসুম আহমদ (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মাসুমের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। এছাড়া তার শরীরে ৫-৬টি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অধিক রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ও পুলিশ হমলা চালায়। তারা আমাদের একজন নেতাকে নিহত ও কমপক্ষে ১০ জনকে আহত করেছে। মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। আমাদের শান্তি সমাবেশে হামলা করে তারা এ প্রমাণ দিলো।
এদিকে, বিএনপি নেতা মাসুম আহমদ নিহতের ঘটনায় তার মা হাসনা বেগম বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ৭৮, তারিখ: ২০/০৬/২০২৩ইং, জিআর মামলা নং ১০৮/২০২৩ইং।
মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামীরা হলেন- বালুচর এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫), টিলাগড় এলাকার তজমুল আলীর ছেলে রমিজ আলী (৪৫), শাহী ঈদগাহ এলাকার মতিন আহমদের ছেলে কামরান আহমদ (৩৭), বালুচর এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে সোলেমান আলী (২৮), শাহী ঈদগাহ এলাকার আশিক আহমদের ছেলে তায়েফ আহমেদ ইফতি (২২), টিলাগড় এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মাজেদ আহমদ (২৪) ও শিবগঞ্জ এলাকার জমসেদ চৌধুরীর ছেলে শিপন চৌধুরী (৩৩)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরাণ থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশ্যাল ছুড়েছে। সংঘর্ষে নিহত মাসুম আহমদের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।