১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করতে খালিস নিয়তে নেক কাজ করতে হবে: গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী
‘মানুষ হলো সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কিন্তু মানুষের এ স্বীকৃতির সাথে জড়িয়ে আছে জবাবদিহিতা। দুনিয়ার জীবন শেষে আখেরাতে প্রত্যেককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। যিনি দুনিয়ার জীবন বিশুদ্ধ নিয়তে নেক কাজের মাধ্যমে অতিবাহিত করেছেন, তিনি কিয়ামত দিবসে সফল হিসেবে বিবেচিত হবেন। এজন্য শর্ত সঠিক আক্বীদাহ ও ইশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত সুন্নাতে নববির পাবন্দি। তখনই একজন মুসলিম প্রকৃত মুমিন হিসেবে পরিগনিত হয়। যাদের জীবন এরকম, ইসলামি বিধান তাদেরকে দুনিয়া আখেরাত উভয় জগতে সফল ঘোষণা দেয়। আমাদের জানামতে এরকম একজন নেককার মানুষ ছিলেন নাজির বাজার লতিফিয়া ইসলামী পাঠাগারের উপদেষ্টা মরহুম মাওলানা কাজী বদরুজ্জামান ছাহেব। তিনি এ নাজির বাজার অঞ্চলে খুলুসিয়াতের সহিত নেক কাজ করে গেছেন। অন্যদিকে যারা এরকম নেক কাজ করে গেছেন, আমাদেরকে ভালোবেসে, সহযোগিতা করে পরপারে চলে গেছেন, শরীয়তে তাদের জন্য দুয়া করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এজন্যই ঈসালে সাওয়াব মাহফিল বা সাওয়াব রেসানির আয়োজন করা হয়। মানুষ তাদেরকে দুয়ার মাধ্যমে স্মরণ করে।
’ গতকাল ১৫ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার নাজির বাজার লতিফিয়া ইসলামী পাঠাগার, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট এর উদ্যোগে নাজির বাজারের ইমা কমিউনিটি হলে পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও উপদেষ্টা মরহুম মাওলানা কাজী বদরুজ্জামান ছাহেবের ‘ঈসালে সাওয়াব ও মাসিক খানকার উদ্বোধনী মাহফিল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধানকালে দারুল ফিকর ওয়াল ইফতা আল ইসলামি বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী উপরিউক্ত কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক মাওলানা নোমান আহমদ (এএসপি) বলেন, ‘যখন একজন নেককার মানুষের জীবনাবসান হয়, আমরা দেখি মানুষ তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। কবরে তাদের দরজাবুলন্দ হয়--এমন দুয়া করে। পাঠাগারের উপদেষ্টা মরহুম কাজী মাওলানা বদরুজ্জামান ছাহেবের জন্য এই ঈসালে সাওয়াব মাহফিল তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। পাশাপাশি আমাদের জন্য উত্তম জীবন গঠনের শিক্ষা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে সঠিক জ্ঞান অর্জন খুব জরুরী। অথচ আমাদের যুবসমাজ সহ সবশ্রেণীর মানুষ পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এমন ক্রান্তিলগ্নে বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে একটি পাঠাগার জাতী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ইসলামের সঠির আদর্শের আলোকে জ্ঞান ছড়িয়ে দিয়ে নাজির বাজার লতিফিয়া ইসলামী পাঠাগার সেই ভূমিকা রাখছে। সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সবাই পাঠাগারকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা উচিৎ।’
উক্ত ঈসালে সাওয়াব ও মাসিক খানকার উদ্বোধনী মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বিশ্বনাথ পৌরসভা আল ইসলাহর আহবায়ক ও পাঠাগারের উপদেষ্টা মাওলানা আখতার আলী, বিশ্বনাথ উপজেলা আল ইসলাহ সভাপতি তালুকদার মো. ফয়জুল ইসলাম, চকবাজার ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও পাঠাগারের উপদেষ্টা মাওলানা আবু সালেহ আল মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন জৈন্তা সরকারি কলেজের প্রভাষক কবির আহমদ, পাঠাগারের উপদেষ্টা হাফিজ মাওলানা মাহমুদুর রহমান তালুকদার, শেখ হাবীবুল্লাহ মাস্টার দাখিল মাদরাসার সুপার শেখ শাহিদুর রহমান, ডাক্তার আব্দুল জব্বার। উপস্থিত ছিলেন সিলেট সরকারি কলেজ তালামীযের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান সাব্বির, পাঠাগারের সহসভাপতি হাফিজ মাওলানা আবু সাঈদ বখত নিয়াজি, নিজাম উদ্দীন তালুকদার, লালাবাজার ইউনিয়ন তালামীযের সভাপতি আব্দুল মুমিন রাজু, সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ আজাদ, সহ সভাপতি আশরাফ আলি, পাঠাগারের সহ সাধারণ সম্পাদক হাফিজ হাফিজুর রহমান, অর্থ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, অফিস সম্পাদক সুরমান আলি, সহ অফিস সম্পাদক হাফিজ শামিম আহমদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাকিম, নাজির বাজার আঞ্চলিক শাখা তালামীযের সহ সভাপতি হাফিজ শামসুল ইসলাম, পাঠাগারের নির্বাহী সদস্য সুমন আহমদ, শামসুল ইসলাম, বদরুল আহমদ, প্রমুখ। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন পাঠাগারের আজীবন সদস্য, পাঠক সদস্য, স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পাঠাগারের শুভাকাঙ্ক্ষী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
মাহফিলের প্রধান অতিথি আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত মাসিক খানকার উদ্বোধনী মাহফিল পরিচালনা করেন এবং উনার দুয়ার মাধ্যমে মাহফিল সমাপ্তি হয়। অন্যান্য মাসিক খানকা পরিচালনা করবেন জালালপুর জালালিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা জফর উদ্দীন মুহাম্মদ আব্দুল মুনঈম মঞ্জালালি। পাঠাগার কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে স্থান ও তারিখ জানিয়ে দিবেন।